Apan Desh | আপন দেশ

তনু হত্যা মামলা

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল আরও একজনের রক্ত

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ১৮ মে ২০২৬

আপডেট: ১৪:৩৮, ১৮ মে ২০২৬

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল  আরও একজনের রক্ত

ফাইল ছবি

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার দীর্ঘ নয় বছর পর তার পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজনের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এক মাস আগে ল্যাব টেস্টে এ অস্তিত্বের প্রমাণ মিললেও রোববার (১৭ মে) রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

মামলাটির বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আমি একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তনুর পোশাকে তিনজনের শুক্রাণু ছাড়াও আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার নয় বছর পর আরেকজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

এর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নমুনা মেলানো হয়নি।

পিবিআই জানায়, গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশ পেয়ে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করা হয়। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন ঢাকায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিকেলে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। এদিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

আরও পড়ুন<<>>জমি নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ এবং পরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে। এরপর দীর্ঘ সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। 

পরবর্তীতে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করা হয়। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। 

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়