ছবি সংগৃহীত
যুদ্ধ বিরতি মেনে চললেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চলমান রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে হুমকি ধামকি দিয়ে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরান।
দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে এ কৌশলগত জলপথ দিয়ে যেকোনো ধরনের নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং আইআরজিসির সঙ্গে পূর্ব সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক।
হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় রেড বিচ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালিটি এখন সম্পূর্ণরূপে তাদের সামরিক নজরদারিতে রয়েছে।
নতুন এ নিয়মের আওতায় শত্রুভাবাপন্ন বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কোনো সামরিক জাহাজ বা নৌযানকে এ প্রণালি দিয়ে একেবারেই চলাচল করতে দেয়া হবে না। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর বাণিজ্যিক ও সাধারণ নৌযানগুলো আগের মতোই এ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।
আরও পড়ুন<<>>ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব
অতি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের সংখ্যায় কিছুটা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বিশেষ করে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে আইআরজিসির এ নতুন কঠোর অবস্থানের পর, গত ২৪ ঘণ্টায় এ প্রণালি দিয়ে অন্য কোনো জাহাজের যাতায়াতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখায় ইরান এবার যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশটি হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে বিস্তৃত সাবসি বা সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ওপর শুল্ক বসাতে যাচ্ছে। এ পদক্ষেপ ঘিরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সিএনএনের খবর অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিকে কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থার আরেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল নিচ্ছে ইরান। দেশটি এবার হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে বিস্তৃত সাবসি বা সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল নেটওয়ার্ককে ঘিরে চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও পারস্য উপসাগরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ও আর্থিক তথ্য আদানপ্রদান এ কেবলগুলোর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
এর ফলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে স্থাপিত সাবমেরিন কেবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করেছে তেহরান। ইরানি গণমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, দাবি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করলে এ গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ট্রাফিক ব্যাহত হতে পারে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































