ছবি: আপন দেশ
প্রবাদ আছে ‘চোরের দশ দিন, গৃহস্থের এক দিন’। অপরাধ করে সাময়িক পার পাওয়া গেলেও এক সময় না এক সময় শাস্তি পেতেই হয়। রাজধানী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অসুস্থতার ভান করে যাত্রীদের স্বজনদের ফাঁদে ফেলে সব নিয়ে নিতেন অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. তাজুল ইসলাম। অবশেষে তাকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি চোরাই মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও চেতনানাশক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) আসামির বিরুদ্ধে ঢাকা বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে আরাফাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণ তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন। ডিপার্চার (বহির্গমন) এলাকায় অবস্থানকালে আসামি তাজুল ইসলাম তার সঙ্গে কৌশলে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। একপর্যায়ে সরল বিশ্বাসে তাজুলের দেয়া কফি পান করার পরপরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন আরাফাত।
ঘটনাটি এপিবিএন সদস্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করে ভুক্তভোগী আরাফাতের দুটি মোবাইল ফোন, কিছু নগদ টাকা এবং ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল ইসলাম জানান, তিনি ও তার সহযোগীরা বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পরে চা, কফি বা কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে ভুক্তভোগীদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নিতেন। সন্দেহ এড়াতে তারা কখনও অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির অভিনয়ও করতেন।
আরও পড়ুন<<>>১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে ফিলিং স্টেশন
তাজুল আরও জানায়, তারা ৪-৫ জনের একটি চক্র মিলে এ অপরাধ সিন্ডিকেট চালাচ্ছিল এবং চোরাই মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে জমা রাখত।
আসামি তাজুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট ১৩ এপিবিএন-এর সহকারী পুলিশ সুপার ফাউজুল কবীর মঈনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল মিরপুরের দারুসসালামের ওই হোটেলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৫ টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০ টি বিভিন্ন মডেলের এয়ারবার্ড হেডফোন, ১৫ টি হাতঘড়ি, ৪ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, ২ টি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ বাংলাদেশি ২,২৩,০০০/- টাকা, সৌদির ৫৩.৫০ রিয়াল, তুরস্কের ০১ লিরা ও বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধ, চোরাচালান বন্ধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই কঠোর অবস্থান ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ যাত্রী এবং দেশের বাইরে থেকে আসা ও তাদের বিদায় জানাতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































