ছবি: আপন দেশ
ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে শিশু আভানের মৃত্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু ওয়াইজ কুরুনী আভানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ একপেশে, খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
যেকোনো শিশুর অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শিশু আভানের মৃত্যুতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। কিন্তু দুঃখজনক এ ঘটনাকে পুঁজি করে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়ে জনরোষ উসকে দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হাসপাতালে মব (গড়ন) সৃষ্টির ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড মৃত্যু
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এ ধরনের আস্ফালন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যা দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা সেবাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রকৃত ক্লিনিক্যাল সত্য তুলে ধরে স্মারকলিপি পেশ করে প্রতিষ্ঠাটি।
হাসপাতাল জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে ৪ বছর বয়সী শিশু ওয়াইজ কুরুনী আভান জ্বর, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে (ওপিডি) আসে। সে সময় পিআইসিইউতে কর্তব্যরত সিনিয়র ডিউটি স্পেশালিষ্ট (জুনিয়র কনসালট্যান্ট) ডা. নজরুল ইসলাম MBBS,DCH শিশুটিকে দেখেন। উক্ত রোগীকে ডা. নজরুল ইসলাম কিছু ইনভেস্টিগেশন দেয়ার পাশাপাশি ঢাকা শিশু হাসপাতালের নবজাতক শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মাহফুজা শিরীনের অধীনে শিশুটিকে ভর্তির পরামর্শ দেন। ভর্তির পরপর যেসব ইনভেস্টিগেশন পাঠানো হয়। তাতে শিশুটির শরীরে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। সে কারণে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা হয়।
শিশু ওয়ার্ডে থাকাকালীন প্রতিদিন বেশ কিছু ইনভেস্টিগেশন করা হয়। এতে ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ আসলেও অন্যান্য প্যারামিটার যেমন CRP, Ferritin, Procalcitonin, SGPT I SGOT-এর রিপোর্ট ডেঙ্গু এক্সটেন্ডেড সিন্ড্রোমের (Dengue Extended Syndrome) সঙ্গে ক্লিনিক্যালি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডেঙ্গু মহামারির এ মৌসুমে এ ধরনের রিপোর্ট আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই পেয়ে থাকি। সে অনুযায়ীই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান চলতে থাকে।
হাসপাতাল জানায়, রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ সারাদেশে জটিল ও মূমুর্ষু রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও চ্যারিটি কার্যক্রমসহ মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করে দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































