ফাইল ছবি
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা অতীতেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সোহেল রানার গ্রামের বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুর এলাকায়। এলাকায় অবস্থানকালে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন তিনি। তার স্বভাবচরিত্রও ছিল আপত্তিকর।
সোহেলের ছোট বোন জলি বেগমর বরাত দিয়ে ডিবির এ কর্মকর্তা জানান, প্রায় চার বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান সোহেল। পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় দিতেও অনাগ্রহী। তারা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
ডিবি জানায়, এলাকায় একজন পেশাদার চোর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন সোহেল। সরকারি রড ও স্থানীয় অটো-মিলের রড চুরির ঘটনায় একাধিকবার ধরা পড়ে মারধরের শিকার হন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় বারবার রেহাই পেয়ে যেতেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মো. শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেছিলেন সোহেল। সে সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে। তবে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় সে সংসার ভেঙে যায়। পরে তিন বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়ে বিপুল ঋণের মধ্যে পড়ে যান সোহেল। পাওনাদারদের চাপের মুখে একসময় এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি।
আরও পড়ুন <<>> রামিসা হত্যা: বিচারের দাবিতে মিরপুর সড়কে অবরোধ
ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে একটি গ্যারেজে রিকশা মেরামতের কাজ শুরু করেন সোহেল। কিন্তু এখানেও তার মাদকাসক্তি ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন চলতে থাকে। একপর্যায়ে পল্লবীর বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে থাকার সময় নিয়মিত ইয়াবা সেবনের অভিযোগে তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, পরে পরিচিতদের মাধ্যমে আবারও পল্লবীর একটি গ্যারেজে কাজ নেন সোহেল। তবে কাজে অনিয়মিত হওয়ায় সেখান থেকেও তাকে ছাঁটাই করা হয়। সবশেষ জনৈক মাসুদের বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেয়া হবে।
এর আগে বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদর আদালতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকর আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। পরে বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন সোহেল। এতে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এসময় শিশুটির মা তাকে খুঁজতে এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা শরীর থেকে আলাদা করেন। দুই হাতও কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গও ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনার সময় একই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন সোহেলের স্ত্রী। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশ উল্লেখ করেছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































