ছবি: আপন দেশ
ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধার আওতায় দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন এবং চারটি আন্তঃনগর ট্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ স্থাপনাতেই বসানো হয়েছে প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট।
রোববার (১৭ মে) বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বিনামূল্যে ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, যাত্রীরা এখন পুরো বিমানবন্দর এলাকায়, এমনকি প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত এবং কার পার্কিং এলাকাতেও এ সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। একই সুবিধা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও চালু হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন এবং চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনগুলোতে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। বিটিসিএলের মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন <<>> মেঘনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পানিসম্পদ মন্ত্রীর
তিনি আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ অল্প সময়ের হলেও জনগণের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি খুব শিগগিরই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে এমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি এটিকে যাত্রীসেবায় বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, শুধু ঢাকা বিমানবন্দরেই প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল, পার্কিং লট থেকে বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় এ সেবা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, যাত্রীরা যেন বিমানবন্দরে প্রবেশের পর থেকে প্লেনে ওঠা পর্যন্ত এবং বিদেশ থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পান, সেটিই নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও জানান, গত কয়েক দিনে শুধু ঢাকা বিমানবন্দরেই ২০ হাজারের বেশি যাত্রী এ সেবা ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































