ছবি: আপন দেশ
পুষ্টিহীনতা, মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে ধারণা ছিল ছয় থেকে নয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর শরীরে মায়ের দুধের মাধ্যমে ইমিউনিটি থাকে। কিন্তু এখন সে বয়সী শিশুরাও হাম আক্রান্ত হচ্ছে। এর বড় কারণ অপুষ্টি ও বুকের দুধ না পাওয়া।
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে গিয়ে আমি দেখেছি, অনেক মা নিজেই অপুষ্টিতে ভুগছেন। ফলে শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না। অনেক শিশু জন্মের পর শালদুধও পাচ্ছে না।
হামের ভয়াবহতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বেশিরভাগ রোগী হাম থেকে পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাম ভালো হওয়ার পরও সেকেন্ডারি ইনফেকশন ও নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে নিয়মিত হাম টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে দেশে হামের টিকাও ছিল না। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করা হয়।
আরও পড়ুন<<>>খায়রুল হককে গ্রেফতার না দেখানোর নির্দেশ
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৪ এপ্রিল আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে চার সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।
হামের মৃত্যুর হার কমে আসছে দাবি করে তিনি বলেন, শনিবার প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যু শূন্য ছিল। আক্রান্তের সংখ্যাও কমছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি শনিবার সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে জোর না দিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
ডাক্তারদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা টেন্ডার, নিয়োগ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হেলথ সেক্টরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। স্বাস্থ্যখাতকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান, পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা, আইসোলেশন এবং সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম ও ডেঙ্গু দুই রোগই অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সেমিনারে হামের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হলিফেমিলি হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক। সেমিনারে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাবের গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো সায়েম।
ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এবং সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































