প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত
দেশে বর্তমানে দুই লাখেরও বেশি নার্সের ঘাটতি রয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে কাজ শুরু করেছে। সে পরিবর্তনের মূল শক্তি হবে ডাক্তার, নার্স ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন ডাক্তারের অনুপাতে অন্তত তিনজন নার্স প্রয়োজন। কারণ ডাক্তাররা নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালন করলেও নার্সদের ২৪ ঘণ্টা রোগীর পাশে থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সে অনুপাতে নার্স নেই। ফলে বিদ্যমান নার্সদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজও দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় শুয়েও মানুষ চিকিৎসা নেয়, কারণ তারা বিশ্বাস করে সেখানে অন্তত কিছু সেবা পাওয়া যাবে। আর সে সেবাটা দিচ্ছেন দেশের ডাক্তার ও নার্সরাই।
আরও পড়ুন<<>>করের আওতায় আসছে মোটরসাইকেল-ব্যাটারিচালিত রিকশা
নিজের শৈশব স্মৃতিচারণ করে এম এ মুহিত বলেন, ছোটবেলায় দুই নার্স আমাকে নিজের সন্তানের মতো আদর করে বড় করেছেন। আমার মা একজন গাইনি চিকিৎসক ছিলেন এবং সে নার্সরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন। এ কারণে নার্সিং পেশার প্রতি আমার আলাদা সম্মান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নার্সিং পেশাকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সে সময় নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা, নারীদের কর্মসংস্থান ও বিদেশে নার্স পাঠানোর মতো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এম এ মুহিত বলেন, গত দেড় দশকে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ সংকটের চিত্র দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন হবে না। রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হওয়ায় কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ দ্রুত বাড়ছে।
সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয় করে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো হবে।
নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও সরকার কাজ করছে এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতে ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হবে, যাতে বাংলাদেশি নার্সরা বিদেশে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে নার্সদের পক্ষ থেকে সাদা ইউনিফর্ম পুনর্বহাল, ডে-কেয়ার সুবিধা, পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার পাথওয়ে নিয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































