ছবি: সংগৃহীত
বৃষ্টি, অনিশ্চয়তা আর শেষ দিনের চাপ—সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা ও শঙ্কা। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দারুণ সাহসী ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং কোচের আত্মবিশ্বাসী পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অধিনায়কের ঝুঁকিপূর্ণ ডিক্লেয়ারেশন—সবশেষে বল হাতে সে সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে টাইগাররা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এসেছে এক ঐতিহাসিক জয়।
সোমবার (১১ মে) চতুর্থ দিনের খেলা শেষে মিডিয়ায় কথা বলতে এসে আশরাফুল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ জিততে চায়। জিততে হলে করণীয় কী? তাও মোটামুটি স্থির। সেটা হলো, মঙ্গলবার (১২ মে) শেষ দিন বাংলাদেশ ৭০ ওভার অন্তত বাকি রেখে পাকিস্তানকে ২৬০ প্লাস রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেবে। আশরাফুলের স্থির বিশ্বাস ছিল, তা দিতে পারলে বাংলাদেশই জিতবে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের ওই মন্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা না করলেও পাকিস্তানের সিনিয়র ক্রিকেটার ও সাদা বলের অধিনায়ক আগা সালমান কৌশলে ‘মাইন্ড গেম’ খেলেছেন।
তিনি পাল্টা বলেন, আমার মনে হয় না বাংলাদেশ অত ঝুঁকি নেবে। বাংলাদেশ হয়তো নিরাপদ অবস্থানে থেকে তারপর ইনিংস ঘোষণা করবে।
বুঝাই গেছে আগা সালমান টিম বাংলাদেশের কাছ থেকে একটা ঝুঁকিপূর্ণ ডিক্লেয়ারেশন চাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ কিন্তু তাই করেছে। সকালে লাঞ্চের আগে পৌনে ২ ঘণ্টা ব্যাটিং করে ২৬৮ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এমন নয় যে, ২৬৮ রান করতে পাকিস্তানিদের পর্যাপ্ত সময় বা ওভার ছিল না। ওই টার্গেট ছোঁয়ার জন্য পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা পেয়েছিল অন্তত ৭৫ ওভার; কিন্তু শান মাসুদের দল তা কাজে লাগাতে পারেনি। পারেনি বলা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের বোলাররা আজান আইওয়াজ, আব্দুল্লাহ ফজল, শান মাসুদ, আগা সালমান ও মোহাম্মদ রিজওয়ানদের তা করতে দেয়নি। পাকিস্তানকে ১৬৩ রানে বেঁধে ফেলেন নাহিদ রানা, তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদরা।
আরও পড়ুন <<>> বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
সবাই দেখেছেন জয়ের কী উদগ্র বাসনা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শরীরী অভিব্যক্তি ও আত্মনিবেদনে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচ শেষে মিডিয়ায় কথা বলতে এসে প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে দিলেন, তারা জিততেই চেয়েছিলেন এবং তারা নিজেরা জানতেন, কি চান। তাদের সামর্থ্য কতটা? এই উইকেটে পাকিস্তানকে ২ সেশনে অলআউট করার সামর্থ্য তাদের আছে, এ আস্থাটাও ছিল পুরো দলের।
টাইগার ক্যাপ্টেন শান্তর ব্যাখ্যায় বোঝা গেছে, বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল লাঞ্চ পর্যন্ত ব্যাটিং করে পাকিস্তানকে ২৮০ প্লাস টার্গেট দেয়া। কিন্তু সময়ের কথা ভেবে তারা ২০ মিনিট আগেই ইনিংস ঘোষণা করেন।
শান্তর বলেন, ব্যাটিংয়ে আমরা সকাল থেকেই ক্লিয়ার ছিলাম, আমরা কি করতে চাই। আমাদের ইচ্ছা ছিল আরও ১৫-২০টা রান করার। বাট সামটাইমস আমার মনে হয় যে, এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়াটাও জরুরি।
কেন, কী কারণে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া? বাংলাদেশ অধিনায়কের পরিষ্কার জবাব, নিজ দলের বোলিং লাইনআপের ওপর আস্থা থেকেই খানিক আগেভাগে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে নামানো।
এ সিদ্ধান্তটা নেয়ার পেছনে কারণ হলো আমাদের বোলিং অ্যাটাক। আমার স্থির বিশ্বাস ছিল, আমাদের বোলিং লাইন এখন অনেক সুগঠিত। তাদের সামর্থ্য কতটা সেটাও আমার খুব ভালো জানা। তারা সবাই এরকম পরিস্থিতিতে কী কী করণীয়, তা খুব ভালো জানে। তাই আমি বোলারদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই ইনিংস ঘোষণা করেছি। মিরাজ যেভাবে স্টার্ট দিয়েছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিয়েছে, সেখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া গেছে। তারপর তাইজুল ভাই মিডল ওভারে দারুণ বোলিং করেছেন। স্পেশালি এ ইনিংসে তাসকিন এবং রানার ওই স্পেলটা আউটস্ট্যান্ডিং ছিল।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































