Apan Desh | আপন দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ  

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০৮:৪২, ১২ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০৮:৪৫, ১২ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ  

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শুরু হবে এ অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম। 

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে এ অধিবেশনে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহবান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে। প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

প্রথম দিন যা হবে: নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কাজ হয়। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে, নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। কারণ, দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

আরও পড়ুন<<>>রিকশাচালক থাকছেন সংসদের প্রথম অধিবেশনে

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এ সংসদে সরকার দল, বিরোধী দলসহ যেসব দল নির্বাচনে জয় পেয়েছে তার সবগুলো দলীয় প্রধানরাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের ২৯৬ জনের মধ্যে ২২৭ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর। সে হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে এ সংসদের।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন যেসব কাজ করে থাকে তা পরিচালিত হয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সংসদের কার্যপ্রণালি, বিধি-বিধান, স্থায়ী কমিটির কাজ, আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়াগুলো বুঝতেও কিছুটা সময় লাগবে আগামী সংসদের।

ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যে কারণে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দল আওয়ামী লীগ ছাড়াই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের অধিবেশন। যদিও এর আগে এরশাদের সময় ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ সংসদ ও খালেদা জিয়ার অধীনে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে দলটি সংসদে ছিল না।

সংসদের ৩০০ আসনের দুটিতে নির্বাচনের ফল স্থগিত রয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন বাতিল হয়েছে। নির্বাচনে ভোট বেশি পেলেও ঝুলে আছে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির দুই প্রার্থীর ভাগ্য। সরোয়ার আলমগীর ও মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফল আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে। ফলে তারা প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না। 

বাকি ২৯৭ আসনের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপির মিত্র গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন।

বিএনপির এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে বিরোধী দলে বসছে। অভ্যুত্থানের নেতাদের দল এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে পেয়েছে ছয়টি আসন। জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে একটি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন সাতটি আসনে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement

জনপ্রিয়