ছবি: বাফুফে
বিশ্বজুড়ে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতে আছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বাড়ির ছাদে, গাছের চূড়ায়, সড়কের ধারে নিজ নিজ পছন্দের দেশের পতাকা লাগিয়ে তার জানান দিচ্ছেন সমর্থকরা। তবে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের মাথায় আরেকটি চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটি হলো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। টানা তৃতীয়বার ফাইনাল জিতে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনের সফল সমাপ্তি টানতে চায় লাল সবুজের মেয়েরা।
বাংলাদেশ টানা দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন। ভারতের আধিপত্য গুঁড়িয়ে ২০২২ সালে প্রথম শিরোপা জয়, ২০২৪ সালে সে মুকুট ধরে রাখার কীর্তি, সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সামনে এবার টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের হাতছানি।
ইতিহাস গড়তে শনিবার (০৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা জানেন, এমন সুযোগ আসবে না বারবার। তাই সামর্থ্যের সবটা দিয়ে ভারতের বিপক্ষে লড়তে চান তিনি ও তার দল।
এবার গ্রুপ পর্বের দেখায় সাফে বাংলাদেশের ১০ ম্যাচের অজেয় যাত্রার ইতি টেনেছে ভারত। ৩-০ গোলে মারিয়া-আফঈদাদের উড়িয়ে মানসিকভাবেও এগিয়ে তারা। নেপালকে সেমি-ফাইনালে হারিয়ে নানা প্রতিকূলতায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ অবশ্য গুছিয়ে নিয়েছে অনেকটা।
শুক্রবার (০৫ জুন) সংবাদ সম্মেলনে মারিয়ার কণ্ঠে তাই প্রতিপক্ষের প্রতি সমীহ থাকলেও, নিজ দল নিয়ে ঝরল আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, আমরা জানি, ভারত অনেক শক্তিশালী, তো আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আগের ম্যাচগুলোতে যে ভুলগুলো করেছি, আজকের দিনটা ছিল সেগুলো শুধরে নেওয়ার। আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, আমরা লড়াই করব। অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে খুব (রোমাঞ্চ কাজ করছে) মনের ভিতরে; কেননা, শিরোপা জয়ের সুযোগ পেয়েছি আবার।
আরও পড়ুন<<>>তপু বর্মনের জোড়া গোলে ইউরোপে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ দলপতি বলেন, বিগত দিনে, আমরা দুইটা সাফ জিতেছি; তৃতীয়বারের মতো সুযোগ এসেছে। সবসময় তো আর এমন সুযোগ থাকে না। সুযোগটা পেয়েছি, এটা কাজে লাগানোর জন্যই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এসেছি, পরিশ্রম করে এসেছি। তো অবশ্যই ফাইনালে আমরা যেন দেশবাসীকে কিছু দিতে পারি, ভালো খেলা উপহার দিতে পারি, সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে আমরা লড়াই করব।
নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে সেরা ছন্দে ছিল না বাংলাদেশ। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর, ঋতুপর্ণা চাকমার অলিম্পিক গোলে সমতায় ফিরে দল। পরে যোগ করা সময়ে প্রীতি রায়ের আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। মারিয়া বললেন, নেপাল ম্যাচের জয়ে দলের অন্দরে এখন বইছে আত্মবিশ্বাসের ফল্গুধারা। প্রত্যেকটা ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ; ম্যাচে অনেক সময় পারফরম্যান্স ভালো বা খারাপ হয়ে যায়, আমরা হেরে যায়। আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করেই সবকিছু হয়। ভারতের বিপক্ষে হারের পর নেপালের বিপক্ষে আমরা জিতেছি, এটা আমাদের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। সেমি-ফাইনালে জিতে যে ফাইনালে আসতে পেরেছি, এটা আমাদের জন্য বড় কিছু এবং এতে করে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে আরও।
অন্যদিকে, সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ভারত। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন তারা। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ভারত গ্রুপ পর্বেই করেছে ১৪ গোল! তবে সর্বশেষ দুই আসরে তারা ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল। সে দুই আসরেই নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































