Apan Desh | আপন দেশ

উদ্ধারের পর শিবির নেতা জিসানকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ১৩ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৬:৫৮, ১৩ জুন ২০২৬

উদ্ধারের পর শিবির নেতা জিসানকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার

ফাইল ছবি, আপন দেশ

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে লাকসাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।  উদ্ধারের পর তাকে ধর্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে গর্ভপাতের মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায় শিবির নেতা জিসান প্রধান নিখোঁজ হননি। তিনি নিজে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন।

অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রুণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি করে পুলিশ।

এঘটনায় ঐ বিধবা নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় জিসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ওসি মো. আব্দুল বারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আত্মগোপনে থেকে নিখোঁজের নাটক করা শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) সকালে জিসানের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ রাফি দাউদকান্দি থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।

ওই জিডিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পায় নি।

পরে লাকসাম জংশন এলাকা শুক্রবার (১১ জুন) তাকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয় জনতার সহযোগীতায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে প্রথমে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে ও তারপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। 

আরও পড়ুন<<>>স্ত্রীদের প্রতি যেভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করতেন মহানবী

উদ্ধারের পর নিখোঁজ প্রসঙ্গে শিবির নেতা জিসান আহম্মেদ প্রধান বলেন, আমি মডেল মসজিদের সামনের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় একটি গাড়ি আমার সামনে এসে থামে। কয়েকজন আমাকে টান দিয়ে গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে নেয়। এরপর থেকে আমি আর কিছু বলতে পারি না বা মনে করতে পারছি না।

জিসান উদ্ধারের পর একজন বিধবা নারী আত্মগোপনে থেকে নিখোঁজ নাটকের নতুন মোড় নিয়ে আসেন। তিনি দাউদকান্দি থানায় বাদী হয়ে শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে ধর্ষণ ও পরস্পর যোগসাজশে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে ওই মামলায় জিসানকে গ্রেফতর দেখানো হয়।

ভুক্তভোগী বিধবা নারীর মামলার অভিযোগ সূত্র ও কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ হওয়া জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে জানা যায় গত ৫-৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে একজন বিধবা নারীর সঙ্গে পরিচয়। সেই সূত্র ধরে তাদের মধ্যে মোবাইলে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

পুলিশ অনুসন্ধান করে জানতে পারে, জিসানের দাউদকান্দি থানা এলাকার ভাড়া বাসায় গত ২০ মে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হোন। আর সেটি করে জিসান নিজেই। পরে বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জিসান তাকে ধর্ষণ করলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

তারপর থেকে জিসান ওই নারীকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এতেও সে রাজি না হলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। অতঃপর ভুক্তভোগী নারী জীবনের ভয়ে রাজি হলে জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর দোকান থেকে ট্যাবলেট কিনে তাকে খাওয়ায়।

ওই ওষুধ সেবনের ২-৩ দিন পর ভুক্তভোগী নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিষয়টি সে জিসানকে জানালে তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুনঃরায় ওষুধ কিনে পাঠায়। পরে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

তারপর জিসান বিয়ের জন্য রাজি হোন এবং বিয়ের তারিখ শুক্রবার (১২ জুন) নির্ধারণ করেন। এদিকে বিয়ে না করার তালবাহানায় বিয়ের আগে দিন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টার দিকে জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যান। সে সঙ্গে তার চাচাতো ভাই রাসেলকে দিয়ে একটি নিখোঁজ জিডি (সাধারণ ডায়েরী) করান।

দাউদকান্দি থানার ওসি আব্দুল বারী বলেন, ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল) খলিলুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। এক নারীকে ধর্ষণ ও নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ভ্রুণ নষ্টসহ একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জিসানের পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঢাকা থেকে দাউদকান্দিতে আসেন জিসান। রাত আটটার দিকে তিনি বাবাকে ফোন করে দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর কথা জানান। এর পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়।

এদিকে জিসান মিয়াকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন, ১৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত উদ্ধার না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?

এ ছাড়া ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়া হয়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে এবং যে ফোন নম্বর ব্যবহার করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে, সেটিও এখনো সক্রিয় রয়েছে। অপহরণকারীদের ফোন নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও পুলিশ হেডকোয়ার্টার, পুলিশের আইজিপি ও র‍্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাই আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়