Apan Desh | আপন দেশ

‘ইসলামি আইন’ দেখিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল তালেবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:৪৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ইসলামি আইন’ দেখিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল তালেবান

ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভের সুযোগ আর থাকছে না আফগানিস্তানে। ‘ইসলামি আইন’-এর কথা উল্লেখ করে দেশজুড়ে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে দেশটির নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, পৃথক আইন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত সমাজের সঙ্গে বিক্ষোভের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামি ব্যবস্থায় অভিযোগ বা অসন্তোষের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, বিক্ষোভ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ এবং ইসলামি আইনে এর কোনো স্থান নেই। সম্প্রতি অনুমোদিত তালেবানের একটি পুলিশ আইনে আফগানিস্তানজুড়ে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তালেবানের এই মুখপাত্র বিক্ষোভকে সময়ের অপচয় হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, বিক্ষোভের কারণে সম্পদের ক্ষতি, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পুলিশ আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইনটি ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল মালয়েশিয়ার

সম্প্রতি তালেবানের বিচার মন্ত্রণালয় ‘শুরতা আইন’ প্রকাশ করেছে। আইনের ৫০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তানের সর্বত্র সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।’

এ দিকে রাশিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশ তালেবান প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও মুজাহিদ বলেছেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তালেবান অগ্রগতি করেছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত এক বছরে তালেবানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিদেশে বহু সফর করেছেন।

মুজাহিদ কুয়েতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিদেশে তালেবানের তিনটি রাজনৈতিক ও কনস্যুলার মিশন কার্যক্রম শুরু করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত ও বার্লিনে তালেবানের দূতাবাস এবং জার্মানির বন শহরে তালেবানের কনস্যুলেট জেনারেল।

তিনি আরও বলেন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও পাকিস্তানের আফগানিস্তানে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি বেলারুশ, নাইজার ও ঘানার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতদের নিয়োগও গ্রহণ করা হয়েছে।

মুজাহিদ আরও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, ইরানের মাশহাদ শহরে তালেবানের নতুন একটি মিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং সেটি কার্যক্রম শুরু করেছে।

মুজাহিদ জানান, ইরান থেকে ১ হাজার ২০ জন আফগান বন্দিকে আফগানিস্তানে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া উজবেকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও প্রায় ১২০ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালেবান প্রশাসনের অর্জন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, কাবুল ও বিভিন্ন প্রদেশে তালেবানের কারাগারগুলোতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বন্দি রয়েছেন।

তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের সাজা কমানো হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাননি। সূত্র: আফগান ইন্টারন্যাশনাল

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়