Apan Desh | আপন দেশ

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:৫৭, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১১:০১, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেটাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া একতরফাভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কবিধিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালত বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু আইনটি প্রেসিডেন্টকে এ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। বিশ্বজুড়ে একতরফাভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার মাধ্যমে ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। 

আদালতের বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত যার অনুপাত ৬:৩ লিখে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এ শুল্ক আরোপ আইনের সীমা লঙ্ঘন করেছে। তবে ইতোমধ্যে সংগৃহীত ১৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি শুল্কের রিফান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হবে কিংবা ফেরতের প্রক্রিয়া কেমন হবে, সে বিষয়ে আদালত কিছু বলেনি।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, ট্রাম্প জাতীয় জরুরি অবস্থার আইন ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ রায়ের পর নতুন করে শুল্ক রিফান্ডের জন্য বিপুল আবেদন জমা পড়তে পারে। বিশেষ করে সেসব দেশ এরইমধ্যে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক মেনে আমদানি কিংবা রফতানিতে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছে, সেসব কোম্পানিগুলো খুব দ্রুতই আবেদন করবে। 

বিচারপতি ব্রেট কাভানো ভিন্নমত পেশ করেছেন। তার ভাষায়, রিফান্ডের প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে এবং কিছু ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই শুল্কের খরচ গ্রাহকের কাছে স্থানান্তরিত করে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

আরও পড়ুন<<>>যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক চুক্তির খসড়া দিচ্ছে ইরান

আদালতের পক্ষে রবার্টস লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের অসাধারণ ক্ষমতা দাবি করেন। এ দাবি করা ক্ষমতার ব্যাপ্তি, ইতিহাস এবং সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটের আলোকে তাকে অবশ্যই এটি প্রয়োগ করার জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে।

আদালত জানায়, ট্রাম্প যে জরুরি ক্ষমতার ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেছিলেন তা যথেষ্ট নয়।

বিচারপতিদের মধ্যে অ্যামি কোনি ব্যারেট, নিল গোরসাচ রবার্টস ও অপর তিনজন লিবারেল বিচারপতির সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানা ভিন্নমত পোষণ করেন।

গত বছরের এপ্রিলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৮০টিরও বেশি দেশের আমদানিতে ‘শুল্ক’ ঘোষণা করেছিলেন। শুল্কের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ শতাংশ থেকে কম্বোডিয়ার জন্য ৪৯ শতাংশ ও লাওসের জন্য ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১০ শতাংশের মতো শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়