Apan Desh | আপন দেশ

গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে জনজীবন, স্বস্তি মিলবে কবে?

আপন দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪১, ২৭ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১২:৪৩, ২৭ জুলাই ২০২৬

গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে জনজীবন, স্বস্তি মিলবে কবে?

ছবি : আপন দেশ

গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কোটি মানুষ। এক দিকে বাসাবাড়িতে দিনের পর দিন গ্যাস না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে রান্নাবান্না। অপরদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। 

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।  

গৃহিণীরা জানান, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বালিয়ে রান্না শুরু করলেও বারবার আগুন নিভে যাচ্ছে। কখন গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়বে, সে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এতে রান্নার পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

রাজধানীর সবুজবাগের বাসিন্দা মমতা খাতুন বলেন, সকালে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে হয়, সংসারের আরও অনেক কাজ থাকে। কিন্তু দিনের বড় একটা সময় চুলার সামনে বসে থাকতে হয় কখন একটু গ্যাস আসবে, আর রান্না করা যাবে। ভাত রান্না করতেই কখনো কখনো এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।

মিরপুরের বাসিন্দা রুমা আকতার বলেন, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, আবার সব ধরনের রান্নাও করা যাচ্ছে না। গ্যাস সংকট এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা খাতে। রাজধানী ও আশপাশের প্রায় সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস নিতে পারছেন না।

আরও পড়ুন<<>>সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি চরমে

চালকদের অভিযোগ, দিনের একটি বড় অংশ শুধু গ্যাস সংগ্রহ করতেই চলে যাচ্ছে। এতে ট্রিপ কমে যাচ্ছে, আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেকেই সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে যাত্রীরাও পর্যাপ্ত সিএনজি না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেক এলাকায় ভাড়া বেড়েছে এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও রান্না ও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হবে এবং বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এর সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং কিছু কারিগরি জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফলে সীমিত গ্যাস সরবরাহ বিভিন্ন খাতে ভাগ করে দিতে হচ্ছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে আবাসিক ও সিএনজি খাতে।

সরকারের জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়