Apan Desh | আপন দেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শরতেও বাড়ছে খরতাপ

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:১২, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শরতেও বাড়ছে খরতাপ

ছবি: আপন দেশ

বাংলা ঋতুচক্রে শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর নির্মল প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এখন অনেকটাই স্মৃতি! বর্ষার বিদায়ের পর শরতের আগমনে প্রকৃতিতে দেখা দেয় এক ধরনের কোমলতা ও প্রশান্তি। কিন্তু এবার শরৎ যেন তার চিরচেনা রূপ হারাতে বসেছে। 

কার্তিকের শেষের দিকেও কমেনি তীব্র খরতাপ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সে চিরচেনা শরৎ। ঋতুর ক্যালেন্ডারে শরৎ থাকলেও আবহাওয়ার আচরণে যেন তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঋতুচক্রে শরৎ থাকলেও তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ ভাবিয়ে তুলছে পরিবেশবিদদের।

বাংলা আশ্বিন মাসের দুই ভাগ চলে গেছে। শরৎকাল শেষ হয়ে সামনে আসছে হেমন্ত। একসময় শরৎ এলেই গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাটে দেখা যেত কাশফুলের শুভ্রতা। আকাশজুড়ে ভেসে বেড়াত সাদা মেঘ। নদী-খাল ও বিলের পানিতে পড়ত নীল আকাশের ছায়া। অথচ দিনের বেলায় এখনো তীব্র রোদ ও খরতাপে জনজীবন অতিষ্ঠ। দুপুরের দিকে বাড়ছে তাপমাত্রার অনুভূতি। বাইরে বের হলে প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকের মধ্যেই দেখা দিচ্ছে ক্লান্তি ও অস্বস্তি। 

প্রকৃতির দিকে তাকালেও শরতের সে পুরোনো রূপ সব জায়গায় চোখে পড়ে না। একসময় শরতের আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ, মাঠের পাশে কাশফুল আর হালকা বাতাস মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দিত। অনিয়মিত বৃষ্টি, অতিরিক্ত গরম ও আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ঋতুভিত্তিক সে স্বাভাবিক বৈচিত্র্য অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণে সে পরিচিত দৃশ্যপটেও এসেছে পরিবর্তন।

আরও পড়ুন<<>>হলুদ ক্ষেতে মিলল ব্যবসায়ীর আগুনে পোড়া মরদেহ

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বদলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘ সময় গরম অনুভূত হওয়ার প্রভাব পড়ছে কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও। শরৎকালে সাধারণত প্রকৃতিতে শুষ্কতা বাড়তে থাকে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কখনো প্রচন্ড গরম, কখনো হঠাৎ বৃষ্টি এমন বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। ফলে শরৎ যেন তার চিরচেনা ছন্দ হারাচ্ছে।

কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মূ. নাজমুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও বনভূমি সংরক্ষণ, জলাভূমি রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরী। একই সঙ্গে পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে কৃষি ও জনজীবনকে খাপ খাওয়ানোর উদ্যোগও প্রয়োজন।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় ভবিষ্যতের শরৎ কি আদৌ থাকবে তার চিরচেনা রূপে? নাকি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলার ষড়ঋতুর বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে সেটিই এখন ভাবনার বিষয়। শরৎ পেরিয়ে হেমন্ত আসবে, এরপর শীত। ঋতুর পালাবদল হয়তো চলতেই থাকবে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলার সে চিরচেনা ষড়ঋতুর রূপ কতটা টিকে থাকবে?

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়