ছবি : সংগৃহীত
এশিয়ান গেমস মানেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পদক নিশ্চিত। এবারও পদক জয়ের আশা নিয়ে দেশ ছেড়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে লিটন-মোস্তাফিজদের। স্বর্ণ ও রুপা হাতছাড়া হলেও সুযোগ ছিল তাম্রপদক জয়ের। সে আশা নিয়ে মাঠে এসেছিলেন নাগোয়ার বাংলাদেশি প্রবাসীরা। তাদের হতাশ করেছে টাইগাররা।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। ১৬৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শূন্য রানে আউট হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। প্রথম দুই ওভারেই বাংলাদেশ দুই উইকেট হারায়। অধিনায়ক লিটন দাস গত ম্যাচে করেছিলেন দুই রান। আরেক কাঠি সরেস। প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন।
শ্রীলঙ্কান দলে সিনিয়র কিংবা জাতীয় দলে খেলা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই বললেই চলে। তারা প্রথমে ২১ রানে চার উইকেট হারালেও ঠিকই ১৬৫ রান বোর্ডে জমা করেছিল। সেখানে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা শুধু আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন। চার জন ব্যাটসম্যান কোনো রানই করতে পারেননি। বাজে শট খেলে একেকজন উইকেট বিলিয়ে এসেছেন। শ্রীলঙ্কার ব্রোঞ্জ জয় ছিল যেন সময়ের অপেক্ষা।
৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা নাসুম আহমেদই বাংলাদেশের সংগ্রহ একশ পেরিয়েছেন। তার ব্যাটে আসে দলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬ রান। এ ছাড়া ইয়াসির আলি রাব্বি ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২০ রান করেছেন। ১৭.৩ ওভারেই বাংলাদেশ ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। লঙ্কানদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্ননায়েকে, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত এবং ওয়ানুজা সাহান।
আরও পড়ুন<<>>জিদানের ফ্রান্সের দারুণ শুরু, ভুলে হাতছাড়া জয়
এর আগে নিজেদের সিদ্ধান্তে ব্যাটিং নিলেও শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভালো হয়নি। বাংলাদেশ দুই প্রান্তেই স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। তাদের ঘূর্ণিতে ৪ ওভারের মধ্যে চার উইকেট হারায় লঙ্কানরা। রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলামকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলায়নি বাংলাদেশ। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম স্পেলে তিনি ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। ১৮ বলের মধ্যে ১২ বলই ছিল ডট।
স্পিন উইকেটে স্পিনার সাইফ হাসানকে আগের ম্যাচে ব্যবহার করেননি অধিনায়ক লিটন দাস। আজকের ম্যাচে সাইফের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন। সাইফ প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ১৮ রান দিয়েছেন। বাংলাদেশের সফল বোলার স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান। তিনি পূর্ণ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কা ১৩ ওভার পর্যন্ত চাপে ছিল। বল খানিকটা পুরোনো হওয়ায় অভিজ্ঞ বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে ১৪তম ওভারে আনেন অধিনায়ক লিটন দাস। প্রথম ওভারেই তিনি ২৫ রান দিয়েছেন। শুরুর দুই বলেই চার হাঁকিয়েছেন লঙ্কান দুই ব্যাটার। ওই ওভারের পর থেকে লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান সাহান আরচিগে ও থারিন্দু রত্ননায়েকে স্বাভাবিক স্ট্রোক খেলতে থাকেন। মোস্তাফিজকে দুই ওভার বিরতির পর প্রান্ত বদলে আবার আনেন অধিনায়ক। নিজের দ্বিতীয় ওভারে মোস্তাফিজ দিয়েছেন ১১ রান। রিশাদও ২১ রান দিয়েছেন তার শেষ ওভারে। ১৩-১৮ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৮৩ রান নিয়েছে।
১৮ ওভারে শ্রীলঙ্কা ১৪৭ রানে ৫ উইকেট ছিল। মোস্তাফিজ তার তৃতীয় ওভারে এসে খানিকটা ছন্দ খুঁজে পান। প্রথম বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা থারিন্দুকে (৩২ বলে ৬৫ রান) ফেরান। এ ওভারে আরেকটি উইকেট নিয়ে মাত্র ৭ রান দেন তিনি। শেষ ওভারে সাইফ হাসান দুই উইকেট নিলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে শ্রীলঙ্কা।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































