ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান একদম নিকটতম প্রতিবেশি। কিন্তু এ মুহুর্তে দেশটির মধ্যে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর মাত্র চারদিন পরে মাঠে গড়াচ্ছে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এ আসর। কিন্তু তার আগে দুঃচিন্তায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি।
ক্রিকেট পাগল জাতি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না। কারণ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছিল। কিন্তু সে দাবি না মেনে উল্টো বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে। এতে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতি হবে আইসিসির।
বিশ্বকাপে না খেলা বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ভারতে বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেপাকিস্তান। তবে বৈশ্বিক আসরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শুধু ক্রিকেট খেলা নয়, কোটি টাকার বাণিজ্য জড়িয়ে থাকে এ ম্যাচের থাকে। পাকিস্তান ম্যাচটি বর্জন করার ফলে সে বাণিজ্যে লাগছে বড় ধাক্কা।
বিশ্বকাপে মোট ৫৫টি ম্যাচ থাকলেও ভারত-পাকিস্তান লড়াইকে আলাদা করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ম্যাচকে কেন্দ্র করেই টুর্নামেন্টের বড় একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সাজানো থাকে। যদিও আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ম্যাচের মূল্য আলাদা করে নির্ধারণ করে না, বাস্তবে এ ফিক্সচারটি পুরো টুর্নামেন্ট প্যাকেজের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
আরও পড়ুন<<>>পাকিস্তান বয়কট করলেও মাঠে যাবে ভারত
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ বাতিল হলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট অর্থনীতি। প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, একটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য সাধারণত অন্য যেকোনো ম্যাচের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়ে থাকে। সে হিসেবে শুধু এই একটি ম্যাচ না হওয়ার ফলে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২০০ কোটি ভারতীয় রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকা।
ভারতের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের গড় আর্থিক মূল্য প্রায় ১০-১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০০ কোটি ভারতীয় রুপি। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষেত্রে দর্শক আগ্রহ, সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন আয় এবং স্পনসরশিপের কারণে এ অঙ্ক সহজেই দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়ে যায়। ফলে একটি মাত্র ম্যাচ বাতিল হওয়াই পুরো টুর্নামেন্টের আর্থিক কাঠামোতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ম্যাচ বাতিল হলে শুধু সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান বা স্পনসরদের নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক ভারসাম্যেই চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের কারণে এত বড় অঙ্কের সম্ভাব্য ক্ষতি মেনে নেয়া আইসিসির জন্য সহজ হবে না।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































