জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান
বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারত সরকার ভুল পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ তুলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওমর আবদুল্লাহ খোঁচার সুরে বলেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, সেভাবেই বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে সে আচরণ করে দেখাক।
উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ঘণ্টা দুয়েক পরই কেকেআর তাকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেয়। বিসিসিআইয়ের এমন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তাই যেখানে নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে আগামী মাসে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে গেলে কীভাবে নিরাপদবোধ করবে—এমন প্রশ্ন তুলে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, এ সিদ্ধান্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে, বেচারা মোস্তাফিজের দোষটা কী? পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ—তা আমি মানি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আমাদের কী ক্ষতি করেছে? বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল, এখনও ভালো। বাংলাদেশ আমাদের দেশে কোনো সন্ত্রাসবাদে জড়িত নয়, আমাদের কোনো ক্ষতিও করেনি। আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একজন খেলোয়াড়কে বাদ দেয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বকাপেও। বাংলাদেশিরা বলছে, তারা ভারতে এসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চায় না, ম্যাচ অন্য কোথাও আয়োজন করতে চায়।
আরও পড়ুন<<>>মোস্তাফিজের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে মুখ খুললেন আইপিএল কর্তৃপক্ষ
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওমর বলেন, খেলোয়াড়দের টার্গেট না করে ভারত সরকারের উচিত প্রতিবেশী দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অভিযান চালিয়ে তার বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে গেছে ট্রাম্প সরকার। উদাহরণ হিসেবে এ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মিস্টার ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা করেছেন, করতে চাইলে আপনারাও বাংলাদেশে সেটাই করুন। কিন্তু এ খেলোয়াড়টির দোষ কী? সে খেলতে প্রস্তুত ছিল। তার দলও তাকে বাদ দিতে চায়নি। তাদের বিবৃতি পড়ুন। উপর মহল থেকে চাপ দিয়ে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খেলোয়াড় নিজেও ফিরতে চায়নি, দলও পাঠাতে চায়নি।
ভারতের ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা সন্তোষ ট্রফির জম্মু ও কাশ্মীর দলের খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। এ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে খেলাধুলাকে রাজনীতির সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগ করেন আবদুল্লাহ, আমরা খেলাকে খেলা হিসেবেই দেখি। কিন্তু তারা দলে খেলোয়াড়দের ধর্ম দেখে। ফুটবল দলে মুসলিম খেলোয়াড় বেশি হলে আপত্তি, আর ক্রিকেট দলে মুসলিম কম হলে কোনো আপত্তি নেই। শিক্ষা হোক বা খেলাধুলা—সবখানেই তারা ধর্ম খোঁজে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































