ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের উত্তেজনায় ভারী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি নতুন করে সংকটময় হয়ে উঠেছে। পাল্টা জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানে অন্তত ৭৮৭ জন এবং ইসরায়েলে ১২ জন নিহত হয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশেও ইরানের হামলায় হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এ সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আয়োজন ফিফা বিশ্বকাপেও। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলমান হামলার মধ্যে স্বাভাবিকভাবে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার অবস্থায় নেই ইরান।
এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও দেশটির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে যেকোনো সময় বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আসরটি ঘিরে ইরানের জন্য জটিলতা আগে থেকেই ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ফেডারেশন সভাপতি মেহেদী তাজসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভিসাও দেয়নি মার্কিন সরকার। এ আচরণকে আগে থেকেই ‘বর্ণবাদী’ ও ‘শত্রুতামূলক’ বলে সমালোচনা করে আসছে ইরান।
ইরান সরে দাঁড়ালে কারা সুযোগ পাবে
বিশ্বকাপের মূল ড্রয়ের পর কোনো দলের সরে দাঁড়ানো আধুনিক ফুটবলে বিরল ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৫০ সালে ফ্রান্স ও ভারত নাম প্রত্যাহার করেছিল। ইরান অংশ না নিলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প দল নেয়া হতে পারে এশিয়া অঞ্চল থেকেই। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম।
আরও পড়ুন <<>> চীনের বিপক্ষে কাল বাংলাদেশের ম্যাচ, চমকের আশায় বাটলার
ইরাক আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে ব্যর্থ হলে শূন্যস্থান পূরণে প্রথম বিবেচনায় থাকতে পারে। এছাড়া ইরাক সরাসরি কোয়ালিফাই করলে এশিয়ার পরবর্তী সেরা দল হিসেবে সুযোগ পেতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত।ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকলেও মহাদেশীয় ভারসাম্য রক্ষায় এশিয়ার দলকেই অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে।
২০২৬ সালের ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে তাদের ম্যাচ হওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সূচি রয়েছে দলটির।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ২০তম এবং এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইরান টানা তিনবারসহ মোট সাতবার বিশ্বকাপে খেলেছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি।
এদিকে ফিফা মহাসচিব ম্যাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপদ পরিবেশে সব দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































