ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির সময় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেয়া এখন অনেকের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। তবে উদ্বেগজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, তেল নেয়ার পরই অনেক ক্ষেত্রে বাইক স্টার্ট দিতে গিয়ে আগুন ধরে যাচ্ছে। এতে শুধু যানবাহনের ক্ষতি নয়, চালকের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে।
কেন এ আগুন লাগে: পেট্রোল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। তেল নেয়ার সময় বা তার পরপরই বাইকের চারপাশে পেট্রোলের বাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। এ বাষ্প খুব সহজেই আগুন ধরতে পারে।
বাইক স্টার্ট দেয়ার সময় ইঞ্জিনে স্বাভাবিকভাবেই ইলেকট্রিক স্পার্ক তৈরি হয়। আশপাশে পেট্রোলের বাষ্প থাকলে এ ছোট স্পার্ক থেকেও আগুন লেগে যেতে পারে।
অনেক সময় তেল নেয়ার সময় ট্যাংক থেকে তেল ছিটকে পড়ে। আবার ঢাকনা ঠিকমতো বন্ধ না থাকলেও তেল বের হতে পারে। এ তেল গরম ইঞ্জিন বা এক্সস্ট পাইপে লাগলে আগুন ধরার ঝুঁকি বাড়ে।
আরও পড়ুন <<>> অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে যে ক্ষতি করছেন
ট্যাংক অতিরিক্ত ভরে ফেললেও সমস্যা তৈরি হয়। এতে তেল উপচে পড়ে বাইকের গায়ে বা মাটিতে জমে থাকে, যা পরে আগুনের কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় চালানোর পর ইঞ্জিন গরম থাকে। এ অবস্থায় তেল নিলে দ্রুত বাষ্প তৈরি হয় এবং ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
যেভাবে সতর্ক থাকবেন
১. তেল নেয়ার সময় অবশ্যই ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন। চালু অবস্থায় কখনো তেল নেবেন না।
২. তেল নেয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে স্টার্ট না দিয়ে অন্তত ৩০-৬০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। এতে বাষ্প ছড়িয়ে যাওয়ার সময় পায়।
৩. ট্যাংকের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না নিশ্চিত করুন। ঢিলা থাকলে তেল বের হতে পারে।
৪. ট্যাংক পুরোপুরি ভরার চেষ্টা করবেন না। কিছুটা ফাঁকা রাখুন, যাতে তেল উপচে না পড়ে।
৫. তেল ছিটকে পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলুন। পরিষ্কার না করে কখনো স্টার্ট দেবেন না।
৬. পাম্প এলাকায় মোবাইল ব্যবহার ও ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। এগুলো আগুনের ঝুঁকি বাড়ায়।
৭. নিয়মিত বাইক পরীক্ষা করুন। ফুয়েল লাইন, ট্যাংক বা কার্বুরেটর/ইনজেকশন সিস্টেমে কোনো লিকেজ আছে কি না তা নিশ্চিত করা জরুরি।
৮. সচেতনতা ও সামান্য সতর্কতা মেনে চললে এ ধরনের দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































