Apan Desh | আপন দেশ

কুমিল্লায় এইডসে ৭ জনের মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৪০, ৫ জুন ২০২৬

আপডেট: ২০:৪০, ৫ জুন ২০২৬

কুমিল্লায় এইডসে ৭ জনের মৃত্যু

ছবি: আপন দেশ

কুমিল্লা জেলায় এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৮৫ জন। এ প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে গত মে মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এ জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো সাতজনে।

শুক্রবার (০৫ জুন) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) ও এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের কাউন্সেলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান এ তথ্য জানান।

মো. আরিফ হাসান বলেন, মে মাসের ৮, ১৩ ও ২৫ তারিখে তিনজনের মৃত্যু হয়। তাদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তারা সবাই কুমিল্লার বাসিন্দা।

মৃতদের একজনের স্ত্রী জানান, তার স্বামী কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। বিয়ের আগে তিনি নিজের এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিষয়টি পরিবার জানতে পারে। স্বামীর মৃত্যুর পর পরীক্ষা করে ওই নারীও এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। তবে তাদের সন্তান সংক্রমিত নয়।

এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুইজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন <<>> পুশ-ইন বারবার ব্যর্থ করছে বিজিবি

আরিফ হাসান জানান, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৬৪৬টি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৮ জন এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা বন্ধ করেছেন।

সেন্টারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালে ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫ জন, ২০২০ সালে ৩১১টি পরীক্ষায় ৮ জন, ২০২১ সালে ৪৯৮টি পরীক্ষায় ১৪ জন, ২০২২ সালে ৭৮৬টি পরীক্ষায় ২১ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন।

এছাড়া ২০২৩ সালে ১ হাজার ২৩০টি পরীক্ষায় ৪৮ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৮১টি পরীক্ষায় ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ৬৭২টি পরীক্ষায় ৩৭ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে রক্তের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেই অধিকাংশ সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।

এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে এমন ৯১ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৪০ জন, বিদেশ ফেরত ৪৯ জন, দাম্পত্য সম্পর্কে সংক্রমিত ৪১ জন এবং নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে সংক্রমিত ২১ জন রয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর আরিফ হাসান বলেন, সরকারি হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হয়। নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেন্টারের কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও তারা সেবাকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়