ছবি: আপন দেশ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করায় এনসিপির নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আবদুল গাফফার ওরফে জিসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। হামলার ঘটনার পর রাতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এলাকায় বিক্ষোভ করেন।
বুধবার (০৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্ট দিয়ে গণ অধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া রাশেদ খাঁন অভিযোগ তোলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন আবদুল হান্নান মাসউদ। আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যকে (সাবেক) টাকার বিনিময়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার এ সময় হান্নান মাসউদের সঙ্গেই থাকতেন। আবদুল হান্নান মাসউদ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর আবদুল গাফফারকে বলেন, ‘ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন।’
রাশেদ খাঁনের দেয়া পোস্টটি ওই দিনই নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন আবদুল গাফফার। এরপর আবদুল হান্নান মাসউদও তার ফেসবুক আইডিতে গাফফারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি রেকর্ড পোস্ট করেন।
সেখানে গাফফারকে উদ্দেশ্য করে কেন তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তোলা হয়েছে জানতে চান হান্নান মাসউদ। জবাবের একপর্যায়ে এর জন্য ক্ষমা চান গাফফার।
এদিকে আবদুল হান্নান মাসউদের পোস্টের পর আবদুল গাফফারের আরেকটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন রাশেদ খাঁন।
এতে গাফফার দাবি করেন, সান্ত্বনা দিতে গিয়েই তিনি আবদুল হান্নান মাসউদকে ফোন দিয়েছিলেন। আবদুল হান্নান মাসউদের ‘তিন কোটি টাকায় ডিল করতে’ চাওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। তবে গাফফার এ বিষয়ে রাজি না হওয়ায় ‘ডিলটি’ হয়নি।
আরও পড়ুন <<>> ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হামলা-ভাঙচুর
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর গতকাল রাত পৌনে নয়টার দিকে একদল লোক আবদুল গাফফারের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তার ঘরের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
এসময় বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান।
এ ঘটনায় পর নিজের ফেসবুক আইডিতে আবদুল গাফ্ফার অভিযোগ করেন, নোয়াখালী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে হান্নান মাসউদের তিন কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় তার গ্রামের বাড়িতে এনসিপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন।
এর আগে দিনভর অনলাইনে তাকে নানা হুমকি দেয়া হয়েছে।
আবদুল গাফফার বলেন, আমি বাড়িতে থাকি না। বাড়িতে থাকেন আমার বৃদ্ধ বাবা-মা। কী দোষ ছিল আমার বাবা-মায়ের?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির হাতিয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক মো. সামছু তিব্রিজ বলেন, এনসিপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ছাত্রনেতা আবদুল গাফফার কীভাবে নিশ্চিত হলেন এনসিপির কর্মীরা তাদের বাড়িতে হামলা করেছে? আসলে তিনিই ঢাকায় বসে ওই হামলার নাটক সাজিয়েছেন, নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য।
সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের অনুরোধে রাতে দলীয় নেতাদের নিয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়ে এসেছেন বলে জানান এনসিপি নেতা সামছু তিব্রিজ।
কোটি টাকা আদায় করতে চাওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সামনে সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে আমাদের চাপে রাখার লক্ষ্যে, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব কিছু করা হচ্ছে। তার (আবদুল গাফফার) কথা যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আমাকে ফোন করে ক্ষমা চাইলেন কেন? এগুলো সবই হলো তাদের নাটক।
হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছাত্রদল নেতা গাফফারের বাবা এ কে এম মোছলেহ উদ্দিনকে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































