Apan Desh | আপন দেশ

নবীজি রমজানের শেষ দশকে যে আমল করতেন

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৯, ১৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১১:৩৩, ১৫ মার্চ ২০২৬

নবীজি রমজানের শেষ দশকে যে আমল করতেন

ছবি : সংগৃহীত

রমজান শুধু সিয়াম সাধনার মাস নয়, পাপ মোচনেরও মাস। এ মাসেই আল্লাহ–তাআলা তার বান্দাদের জন্য ক্ষমার দুয়ার এমনভাবে উন্মোচিত করে দেন, যেন আকাশ থেকে রহমতের বারিধারা বর্ষিত হচ্ছে। প্রতিটি রোজা, তারাবিহ, সাহরি ও ইফতারের বিনিময়ে সওয়াবের পাশাপাশি অতীত জীবনের গুনাহও মাফ করে দেয়া হয়। তবে এ বরকতময় মাসের বিশেষ একটি অংশ রয়েছে—শেষ দশক।

রমজানের শেষ দশ দিন মুমিনদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক উৎসব। এ দিনগুলোতে লাইলাতুল কদর রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। নবীজি (সা.) নিজে এ সময়ে ইবাদতকে বহুগুণ বৃদ্ধি করতেন এবং উম্মতকেও সর্বোচ্চ সচেতন ও আন্তরিক ইবাদতের নির্দেশ দিতেন। 

রাত জাগরণ, তওবা-ইস্তেগফার, দোয়া, ফিতরা আদায় ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শেষ দশক মুমিনকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে। এ সময়ের প্রতিটি আমল আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, আত্মশুদ্ধি ও নেকির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। ইতিকাফ ছাড়াও শেষ দশকে নবীজি (সা.)-এর বিশেষ কয়েকটি আমল হাদিসের আলোকে উল্লেখ করা হলো।

অধিক পরিমাণে ইবাদত করা

পুরো রমজানেই নবীজি (সা.) ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তবে রমজানের শেষ পর্ব এলে তা আরও বেড়ে যেত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে ইবাদতের মাত্রা এত বেশি বাড়িয়ে দিতেন, যেমনটি অন্য সময় করতেন না। (সহিহ মুসলিম ১১৭৫)

রাত জাগরণ  
শেষ ১০ দিনে নবীজি (সা.) দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে দিতেন। তিনি নিজে রাত জাগতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। হজরত আয়েশা (র.) বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক আসত, তখন নবী (স.) লুঙ্গি কষে নিতেন (অর্থাৎ ইবাদতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতেন), রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন।’ (বুখারি)

শবেকদর তালাশ করা
রমজানের শেষ ১০ দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো শবেকদর। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। গুনাহ বর্জন করে ইখলাসের সঙ্গে ইবাদতের মাধ্যমে এ রাত অতিবাহিত করতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) শবেকদর অনুসন্ধান করো। (সহিহ বুখারি ২০১৭)

আরও পড়ুন<<>>আল্লাহর নৈকট্য লাভের মহিমান্বিত ইবাদত ইতিকাফ

ক্ষমা প্রার্থনা করা 
নবীজি (সা.) শেষ দশকে নিজে বেশি বেশি দোয়া করতেন। উম্মতকেও তিনি বিশেষ একটি দোয়া পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি লাইলাতুল কদর জানতে পারি, তাহলে সে রাতে কী বলব? তিনি বলেন, তুমি বলবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন কারিমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (সুনানে তিরমিজি ৩৫১৩)

তওবা-ইস্তেগফার করা
রমজান হলো মহান আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ করিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার মাস। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও বেশি ইস্তেগফার ও তওবা করে থাকি। (সহিহ বুখারি ৬৩০৭) শেষ দশকেও যদি কেউ নিজের গুনাহ মাফ করাতে না পারে, তবে তার জন্য নবীজির কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে। তিনি বলেছেন, ওই ব্যক্তির নাক ধুলাধূসরিত হোক, যে রমজান পেল এবং তার গুনাহ মাফ করার আগেই তা বিদায় নিল। (সুনানে তিরমিজি ৩৫৪৫)

ফিতরা আদায় করা
শেষ দশকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা। এটি রোজা পালনের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে এবং গরিবদের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজের আগেই সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি ১৫০৩)

তাহাজ্জুদ আদায়
নবীজি (সা.) এ সময়ে দীর্ঘ কেরাত ও রুকু-সেজদার মাধ্যমে কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) আদায় করতেন। এ ছাড়া জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।

শেষ দশক মুমিনের জন্য আত্মসমীক্ষা, ধৈর্য ও ইবাদতের সময়। নবীজির (সা.) আমল অনুসরণ করলে বান্দা শবেকদরের বরকত অর্জন করে, গুনাহ মাফ হয় ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে। এ সময় ইবাদতের ধারাবাহিকতা, দোয়া ও তওবার মাধ্যমে নেকির পরিধি বৃদ্ধি পায়। ফিতরা আদায় সমাজে দান ও নৈতিকতার গুরুত্বও দৃঢ় করে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে যথাযথভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়