Apan Desh | আপন দেশ

ব্রাজিলকে জিততে দেয়নি মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:০৫, ১৪ জুন ২০২৬

ব্রাজিলকে জিততে দেয়নি মরক্কো

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই সমর্থকদের ঘুম হারাম। এবার সত্যি ব্রাজিল সমর্থকদের আরামের ঘুমকে হারামে পরিনত করে দিল মরক্কো। রোববার (১৪ জুন) ভোরে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের চোখ ছিল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানে এদিন ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল আফ্রিকার সিংহ মরক্কো। কিন্তু দুই দলের কেউ এদিন জিততে পারেনি। 

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উন্মাদনায় ঠাসা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত থেমেছে ১-১ সমতায়। এ ফলাফল দুই দলের জন্যই একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের আরও অনেক উন্নতি করতে হবে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের চিরাচরিত স্নায়ুচাপের কারণেই হয়তো ব্রাজিলের শুরুটা ছিল ভীষণ নড়বড়ে। মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগে একের পর এক ভুল পাস এবং দুর্বল ট্যাকল সেলেসাওদের বিল্ড-আপ ফুটবলকে বাধাগ্রস্ত করছিল। বিশেষ করে লুকাস পাকেতা, কাসেমিরো এবং রাইট-ব্যাকে খেলা ইবানেজের একের পর এক ভুল ব্রাজিলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

প্রীতি ম্যাচগুলোতে রাইট-ব্যাক হিসেবে আলো ছড়ালেও এই ম্যাচের প্রথমার্ধে নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন না ইবানেজ। মরক্কোর নুসাইর মাজরাউই ও বিলাল এল খানুসকে অতিরিক্ত জায়গা ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি আক্রমণে উঠেও সফল হতে পারছিলেন না এ ২৪ নম্বর জার্সিধারী।

আরও পড়ুন<<>>প‍্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দারুণ সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের 

ব্রাজিলের এ অগোছালো ফুটবল ও ভুলের সুযোগ নিয়েই প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় মরক্কো। মাঝমাঠে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ বল পেয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পান। তার সবচেয়ে কাছে থাকা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরো তাকে রুখতে ব্যর্থ হন। সে সুযোগে পিএসভির সেন্টার ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস ও গাব্রিয়েল গিমারেসের মাঝের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। নিখুঁত পাসে বল পেয়ে গোলরক্ষক আলিসন বেকারের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ চিপে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাইবারি।

গোল হজমের পর ব্রাজিলের ছন্নছাড়া রূপ আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে বলই পৌঁছাচ্ছিল না। প্রধান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট বলেরই নাগাল পাননি বললেই চলে। তবে এর মাঝেই একবার বাঁ প্রান্ত দিয়ে পিএসজি ফুল-ব্যাক আশরাফ হাকিমিকে গতিতে পরাস্ত করে একটি ক্রস বাড়িয়েছিলেন ভিনি, কিন্তু ইগর থিয়াগো হেড করতে গিয়ে মিস করায় সে যাত্রায় গোল হয়নি।

তবে দমে যাননি ভিনি। নিজের চেনা বাঁ প্রান্তে ৭ নম্বর জার্সির মর্যাদা রেখে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন তিনি। ব্রুনো গিমারেসের পাস থেকে বল পেয়ে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে মরক্কোর মার্কার নেইল এল আয়নাউইকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং নিজের ট্রেডমার্ক স্টাইলে এক জোরালো কোনাকুনি শটে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান।

প্রথমার্ধে যোগ্যতার চেয়ে বেশি সুবিধা নিয়ে বিরতিতে যাওয়া ব্রাজিলের রূপ বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি কার্ড দেখা ইবানিয়েন্দ ও চোটপ্রবণ কাসেমিরোকে তুলে মাঠে নামান দানিলো এবং ফাবিনিয়োকে। এ পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় শৃঙ্খলা ফেরে, পাসের ভুল কমে আসে এবং মরক্কোর আক্রমণের ধারও কমে যায়। মরক্কোর বুয়াদ্দি, ওনাহি ও সাইবারিরা চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের জমাট রক্ষণ ভেঙে আর সুযোগ তৈরি করতে পারেননি, ফলে একপর্যায়ে মরক্কোও ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে।

শেষদিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ মিস করেছে ব্রাজিল। ইয়াসিন বুনোকে একা পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি রাফিনহা। আর যোগ করা সময়ে নিল এল আইনাউইয়ের নিচু শটটি ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে পয়েন্টের স্বাদ দেন আলিসন। ফলে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুদলকে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়