ফাইল ছবি, আপন দেশ
দেশের সাড়ে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি শুরু করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। সোমবার (১৫ জুন) থেকে দেশব্যাপী শিক্ষকদের দৈনন্দিন উপস্থিতি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করার কাজ শুরু হবে।
নজরদারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে দেশের সব উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এইউপিইও) ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (এটিপিইও) জন্য ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে অধিদফতর।
আরও পড়ুন<<>>শিশুশ্রম প্রতিরোধে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি কর্মদিবসে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উপস্থিতি-সংক্রান্ত তথ্য নির্ধারিত সময়ে ক্লাস্টারভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে সারাদেশের বিদ্যালয়গুলোর জন্য তথ্য পাঠানোর সময়সীমা সকাল ৯টা ২০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ঢাকা মহানগরীর বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে এ সময়সীমা সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার গ্রুপে এসএমএসের তথ্য পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদের মানতে হবে যে ১১ নির্দেশনা:
১. প্রতিটি উপজেলার ক্লাস্টার পর্যায়ে সকল প্রধান শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থাকবে এবং গ্রুপের অ্যাডমিন হবেন সংশ্লিষ্ট এইউপিইও/এটিপিইও।
২. প্রতি কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক সকাল ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে ক্লাস্টার গ্রুপে পাঠাবেন। তবে ঢাকা মহানগরীর জন্য ক্লাস্টার গ্রুপে এসএমএস পাঠানোর সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। কখনো সরকার নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন হলে বিদ্যালয় শুরু হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য ক্লাস্টার গ্রুপে পাঠাতে হবে।
৩. সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সব বিদ্যালয়ের উপরোক্ত তথ্য সংগ্রহ করে একই ধারাবাহিকতায় সংখ্যাগুলো যোগ করবেন এবং সমন্বিত ফলাফল সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর পাঠাবেন। ঢাকা মহানগরীতে সহকারী থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের গ্রুপে ৮টা ১৫ মিনিটের মধ্যে পাঠাবেন।
৪. প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সব তথ্য এক করে উপজেলা পর্যায়ে একইভাবে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করবেন এবং সমন্বিত ফলাফল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে পাঠাবেন। ঢাকা মহানগরীতে থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট গ্রুপে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে সাবমিট করবেন।
৫. জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেলার সব উপজেলা বা থানার মোট উপস্থিত ও অনুপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা যোগ করে তা সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালকের পরিচালিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠাবেন।
৬. বিভাগীয় উপ-পরিচালকরা বিভাগের সব জেলার তথ্য একত্র করে বিভাগীয় সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করবেন এবং বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠাবেন এবং বিভাগের এক্সেল শিটে সন্নিবেশিত তথ্য ই-মেইলে ([email protected]) পাঠাতে হবে।
৭. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রতিদিন প্রাপ্ত শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য সমন্বিত করে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক উপস্থিতির দৈনন্দিন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করবেন।
৮. উপজেলা বা থানা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে তথ্য সন্নিবেশনের ক্ষেত্রে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ সরবরাহ করা এমএস এক্সেল শিট ব্যবহার করতে হবে।
৯. উপজেলা পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় উপপরিচালক পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকের নামের তালিকা এতৎসঙ্গে সরবরাহ করা এক্সেল শিটে পাঠাতে হবে।
১০. প্রধান শিক্ষকরা এসএমএস পাঠানোর পাশাপাশি শিক্ষক হাজিরা খাতার সংশ্লিষ্ট অংশের ছবি তুলে সহকারী উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন। শিক্ষক উপস্থিতির মাসিক প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের প্রেরণ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে শিক্ষক হাজিরা খাতার ছবি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে।
১১. সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা তিন লাখ ৮৪ হাজার। আর এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছে প্রায় এক কোটি কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থী।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































