ছবি : আপন দেশ
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য চারটি হেলিকপ্টার কেনা হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পারিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, উপজেলা থেকে জটিল ও গুরুতর রোগীদের জেলা সদর বা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য এ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।
রোববার (১৪ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ ১০ জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন ও হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন সরকার। যে বরাদ্দ এবারের বাজেটে জিডিপির এক শতাংশ। সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। তার মধ্যে ৮০ হাজার নারী। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসূতি মায়ের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন। বাড়িতে কোনো প্রসূতির ডেলিভারি হবে না। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো হবে ইউনিকমানের।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে নিয়োজিতরা অতীতের মতো সেবা দিলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করছেন। আমাদের কাজ করতে হবে সেবার মানসিকতা নিয়ে।
তিনি আরও বলেন, সমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। সেজন্য ডেঙ্গু মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ দশ জেলায় আইসিইউ সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ আইসিইউ কার্যক্রম চালু করতে গিয়ে বেসরকারি খাত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের সহযোগিতায় ১০ জেলায় আইসিইউ কেন্দ্র চালু হলো।
মন্ত্রী বলেন, এ নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বরতদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো অসুবিধা বা প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সারা দেশে বিদেশিদের সহযোগিতায় নারীদের জন্য দুটি ১৫শ বেডের বিশেষায়িত হাসপাতালসহ সারা দেশে ২০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
আরও পড়ুন <<>> ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে’
তিনি বলেন, নারীদের জন্য নির্মিত হাসপাতাল দুটিতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, বেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন সেবার সুযোগ সুবিধা থাকবে।
এসময় মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, ডিসি ও এসপিদের হাত অনেক লম্বা। অফিসে হাত পা গুটিয়ে বসে না থেকে মানুষের সেবায় কাজ করার আহবান জানান এবং জেলার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে নিজ উদ্যোগে তদারকি করার নির্দেশ দেন।
এদিকে সকাল ১০টায় হাসপাতাল পরিদর্শন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধনে জন্য সময় নির্ধারিত থাকলেও মন্ত্রী সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতলে এসে পৌঁছান। এসময় তিনি ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা, কর্মচারীদের হাজিরা খাতা খতিয়ে দেখেন। পুরো হাসপাতাল পরিদর্শন করার একপর্যায়ে রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। রান্নাঘরে রান্নার জন্য রাখা হাড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন দেখে সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. মশিউর রহমানের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আপন দেশ/এসএস




































