Apan Desh | আপন দেশ

ইস্তিগফার, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ পথ

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৬, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

ইস্তিগফার, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ পথ

মসজিদ

ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ইসলামের এক গভীর ও মৌলিক শিক্ষা। কোরআন ও সহিহ হাদিসে বারবার বান্দাকে তওবা ও ইস্তিগফারের দিকে আহবান জানানো হয়েছে। বিস্ময়ের বিষয় হলো—যিনি নিষ্পাপ, যার আগের ও পরের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন—সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। আল্লাহর কসম, আমি নিজে প্রতিদিন ১০০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা চাই।

অন্য সহিহ বর্ণনায় পাওয়া যায়, কোনো কোনো দিনে তিনি ৭০ বারের অধিক ইস্তিগফার করতেন। হাদিস বিশারদরা ব্যাখ্যা করেছেন, সময়, অবস্থা ও ইবাদতের ভিন্নতার কারণে এই সংখ্যায় পার্থক্য দেখা যায়। 

এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যিনি গুনাহমুক্ত, তার জন্য এত বেশি ইস্তিগফারের প্রয়োজন কেন?

আলেমদের ব্যাখ্যায় জানা যায়, নবীজি (সা.)–এর এ আমল মূলত উম্মতের জন্য শিক্ষা। তিনি তার উম্মতকে বোঝাতে চেয়েছেন, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক কখনো আত্মতৃপ্তির ওপর নয়; বরং তা গড়ে ওঠে বিনয়, দাসত্ব ও নিরন্তর ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে।

ইস্তিগফার কেবল গুনাহ মাফের আবেদন নয়। এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের ইবাদতে কখনো পরিতৃপ্ত হননি। বরং তিনি প্রতিনিয়ত আল্লাহর আরও কাছাকাছি যেতে চাইতেন। ইস্তিগফারের মাধ্যমে তিনি তার পূর্ণ দাসত্ব ও বিনয় প্রকাশ করতেন।

আরও পড়ুন<<>>জুমার দিনের ফযীলত-বিশেষ আমল

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ইস্তিগফারের আরেকটি গভীর দিক হলো—মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য অনিচ্ছাকৃত ভুল, গাফিলতি ও ত্রুটিতে জড়িয়ে পড়ে, যা অনেক সময় তার অজান্তেই ঘটে। এসবের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া জরুরি।

অনেক আলেম এ কথাও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের পাশাপাশি উম্মতের পক্ষ থেকেও ইস্তিগফার করতেন, যা উম্মতের জন্য রহমত ও নিরাপত্তার কারণ ছিল।

পবিত্র কোরআনে ইস্তিগফারের দুনিয়া ও আখিরাতের উপকারিতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।

এ আয়াত প্রমাণ করে, ইস্তিগফার শুধু আখিরাতের মুক্তির পথ নয়; বরং দুনিয়াবি বরকত ও কল্যাণেরও চাবিকাঠি।

আজকের ব্যস্ত ও বিভ্রান্তিময় সময়ে নবীজি (সা.)–এর এই আমল আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মব্যস্ততা, গাফিলতি ও নানা পাপে মানুষ সহজেই আল্লাহকে ভুলে যায়। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের দেখিয়ে গেছেন—সবচেয়ে ব্যস্ত জীবনেও আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার দরজা বন্ধ হয় না।

আলেমরা বলেন, নিয়মিত ইস্তিগফার মানুষের অন্তরকে পরিষ্কার করে, অহংকার দূর করে এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে না হলেও প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার অভ্যাস একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) দিনে ১০০ বারেরও বেশি ইস্তিগফার করার সুন্নাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া ছাড়া শান্তি ও মুক্তির আর কোনো পথ নেই। ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়েই একজন বান্দা তার রবের রহমত, প্রশান্তি ও নাজাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়