Apan Desh | আপন দেশ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনবৃত্তান্ত

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৭, ৩১ মার্চ ২০২৬

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনবৃত্তান্ত

ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় একটি পরিচিত নাম। তিনি ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই সময় তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনেও তিনি অংশ নেন।

রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। সে সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন এবং এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণও করতে হয়েছে।

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় তার জন্ম। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন <<>> ছাত্ররা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য রক্ত দেয়নি: ড. মাসুদ

কর্মজীবনের শুরু ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে উপ-পরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস.এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই কন্যা রয়েছে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে শামারুহ উচ্চশিক্ষা শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে সাফারুহ ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

তার পরিবারেও রয়েছে রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান।

তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস.আর. মির্জা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারে দায়িত্ব পালন করেন এবং যুব শিবির অধিদফতরের প্রধান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ তদারকি করেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

শীর্ষ সংবাদ:

বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে: মন্ত্রী ১৪ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ ভারত থেকে এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল ১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান পেট্রোল পাম্প মালিকরা পেট্রোল-ডিজেল কী পরিমাণ মজুত আছে, জানাল জ্বালানি বিভাগ তেলভর্তি জাহাজে হামলা, সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এমপির স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা তেহরানে ফের অতর্কিত হামলা ইসরায়েলের নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক