Apan Desh | আপন দেশ

ছাত্ররা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য রক্ত দেয়নি: ড. মাসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:২০, ৩১ মার্চ ২০২৬

ছাত্ররা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য রক্ত দেয়নি: ড. মাসুদ

ড. মাসুদ

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ফ্যামিলি কার্ড বা রাস্তা সংস্কারের জন্য রক্ত দেয়নি, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার বিগত সরকারের মতোই উন্নয়নের কথা বলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ ভুলিয়ে দিতে বসেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে এক রাজা ও তার নির্বোধ উজিরের গল্প তুলে ধরে এ সংসদ সদস্য বলেন, উজিরকে কাজের তালিকা করে দিয়েছিলেন রাজা। একবার ঘোড়ায় ওঠার সময় রাজার পা রেকাবে আটকে গেলে তিনি উজিরকে সাহায্য করতে বলেন। কিন্তু উজির তার কাজের তালিকায় এ উদ্ধারের কথা লেখা না থাকায় রাজাকে সাহায্য করেননি। বর্তমান সংসদের অবস্থাও ওই উজিরের মতো। আমরা লাইনে দাড়ি-কমা, সেমিকোলন খুঁজছি, অথচ মূল কাজ ফেলে রেখেছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নেসেসিটি নোজ নো ল’— আমরা এ বাক্যটিকে আজ সংবিধানের ধারার মধ্যে আটকে ফেলেছি। 

আরও পড়ুন<<>>ভারতের ভিসা নিয়ে যে তথ্য দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সরকারে সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর উন্নয়নের কথা বলে আমাদের নির্বাচনকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। এখন আমরা দেখছি—আমাদের নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে আমরা আবার ‘জুলাই সনদ’টাকেই ভুলিয়ে দিতে বসেছি। আমাদের সন্তানেরা বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে, পা হারিয়ে, চোখ হারিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কি প্লাকার্ডে লিখেছিল যে, আমরা একটা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য দাঁড়িয়েছি? তারা লিখেছিল— রাস্তা সংস্কারের কাজ নয়, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা সংস্কারের পরিবর্তে এখন সংশোধনীর দিকে যাচ্ছি। এ সংশোধনীর জন্য আমাদের তরুণ-যুবকেরা, আমাদের জনতা কাজ করেনি। সংশোধনীর জন্য তো শেখ হাসিনাও সেদিন বলেছিলেন ২৪ ঘণ্টা দরজা খোলা আছে। কিন্তু ছাত্র-জনতা সে সংশোধন মেনে নেয়নি, তারা সংস্কার চেয়েছিল। অথচ আমরা আজ সংস্কারটা মাথায় নিতে পারছি না। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার করার কথা থাকলেও সরকার খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সরকারের সবাই মিলে বাংলাদেশ স্লোগানের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এ নেতা বলেন, ১১টা সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক বদল হয়েছে। সবাই মিলে বাংলাদেশ হলে, সরকারি দলের বাইরে একজনও যোগ্য ও সৎ মানুষ কি খুঁজে পাওয়া গেল না? স্থানীয় সরকারে নির্বাচনের দিকে না গিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজ দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এটা কি সবাই মিলে বাংলাদেশ?

সরকারি দলের বেঞ্চ (ট্রেজারি বেঞ্চ) থেকে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নেয়া শপথকে অবৈধ বলার জবাবে ড. মাসুদ বলেন, এ অবৈধ কাজে আমাদের কারা সহযোগিতা করেছেন? এ অবৈধ প্ররোচনা আমাদের কে দিয়েছেন? জাতীয় সংসদে আমাদের কাছে কাগজ (শপথপত্র) প্লেস করেছে কে? যারা প্লেস করেছে, তাহলে তাদের তো আগে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আমি তো আর বাউফল থেকে সংস্কারের শপথের কাগজ পকেটে করে নিয়ে আসিনি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

শীর্ষ সংবাদ:

বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে: মন্ত্রী ১৪ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ ভারত থেকে এলো আরও ৭ হাজার টন ডিজেল ১৩ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান পেট্রোল পাম্প মালিকরা পেট্রোল-ডিজেল কী পরিমাণ মজুত আছে, জানাল জ্বালানি বিভাগ তেলভর্তি জাহাজে হামলা, সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাবেক এমপির স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা তেহরানে ফের অতর্কিত হামলা ইসরায়েলের নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক