Apan Desh | আপন দেশ

ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ছবি: আপন দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিনই আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ধানের শীষ প্রতীক পান। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের জন্য দাড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

প্রতীক বরাদ্দের পর বিএনপির প্রার্থী মিল্টন অভিযোগ করেন, তারা আচরণবিধি মেনেই কার্যালয়ে এসেছেন। তবে একটি বিশেষ দল আচরণবিধি মানেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, পাঁচজনের বেশি লোক নিয়ে আসার নিয়ম না থাকলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে দশজনের বেশি লোক আনা হয়েছে।

এ সময় ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের নারী কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন—এমন অভিযোগও তোলেন মিল্টন।

তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে নারীকর্মীরা ব্যক্তিগত তথ্য চাইছেন, যা হস্তান্তরযোগ্য নয়।

মিল্টনের অভিযোগ, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় সংশ্লিষ্ট নারীকর্মীরা পালিয়ে যান। পরে তাদের নেতারা ২০-২৫ জন লোক নিয়ে এসে প্রশ্নকারীদের নাজেহাল করেন। পীরেরবাগ ও শেওড়াপাড়াতেও একই ধরনের ঘটনার দাবি করেন তিনি।

বিএনপির প্রার্থীর দাবি, স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে জামায়াতের সংঘবদ্ধ কর্মীরা বিএনপির দুই কর্মীকে মারধর করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে অবহিত করেন। 
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানান।

জামায়াতের আমিরের পক্ষে প্রতীক গ্রহণ করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতীক বরাদ্দের পর জুবায়ের বলেন, আগামী নির্বাচনে সব প্রার্থী অংশ নেবেন বলে তারা আশাবাদী। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের দিকে দেশ এগিয়ে যাবে। তবে তাদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তিনি।

আরও পড়ুন <<>> যে প্রতীক পেলেন রুমিন ফারহানা

তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই নির্বাচন কমিশনের উচিত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন প্রত্যাশা করেন বলেও জানান।

বিএনপির তোলা আগাম প্রচারণার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন জুবায়ের। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরই সব প্রচার সামগ্রী সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইসির অপেক্ষাও করা হয়নি।

তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে ১০ দলীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে বলেও জানান।

জুবায়েরের ভাষ্য, একটি বিশেষ দল থেকে নারী ভোটারদের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে প্রত্যাশা করেন তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রতীক বরাদ্দ দেন। এ দুই আসনে মোট ২৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বৃহস্পতিবার থেকে আইন মেনে প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে কর্মী ও সমর্থকদের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বেশি আসে বলে জানান তিনি।

এ কারণে প্রার্থীদের নিজ নিজ কর্মীদের সচেতন করার আহবান জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ইউনুচ আলী বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে একজন করে পোলিং এজেন্ট রাখা যাবে। একজন করে নির্বাচনী এজেন্ট থাকবে। নির্বাচনী ব্যয় ওই এজেন্টের মাধ্যমেই জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না বলেও তিনি জানান।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়