Apan Desh | আপন দেশ

সবজির বাজারে স্থিতি, মাছ-মাংস-মুরগির দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১২:০০, ১৩ মার্চ ২০২৬

সবজির বাজারে স্থিতি, মাছ-মাংস-মুরগির দাম চড়া

ছবি: আপন দেশ

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে এলো সিয়াম-সাধনার মাস পবিত্র রমজান। এখন চলছে শেষের দশক। আর মাত্র কয়েক দিন বাদেই পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদযাপন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। এ উপলক্ষ্যে সপ্তাহ খানেক আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। সবজির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। 

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৩ মার্চ) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদ উল ফিতরের আর মাত্র ৮–৯ দিন বাকি। ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে এখন থেকেই মুরগি কিনে রাখছেন। এতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে। 

রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ২০০-২২০ টাকা কেজি হয়েছিল। এর কয়েক দিন পর দাম কমতে থাকে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকায় কেনা গেছে। এরপর দাম আবার বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়ায়। সর্বশেষ গত তিন দিনে সে দাম আরও বেড়েছে। এদিন রাজধানীর কমলাপুর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকায়; অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। আর তিন দিনের মধ্যে কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে।

এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আজ রাজধানীতে মানভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০–৩৫০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে ৩৬০ টাকা দরেও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি সোনালির দাম ছিল ২৭০-৩০০ টাকা।

বাজারে অনেক দিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন সেইদামও বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০–১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

অন্যদিকে মাছ ও গরুর মাংসের বাজারে আগেই চড়া দামের চাপ রয়েছে। বাজারে মাঝারি আকারের অনেক মাছই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। জনপ্রিয় মাছগুলোর দাম আরও বেশি। ফলে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে নিয়মিত মাছ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন<<>>‘নতুন নোট পণ্য হিসেবে বিক্রি বেআইনি’

গরুর মাংসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে অনেক পরিবার মাসে একবারও গরুর মাংস কিনতে পারছে না বলে জানান ক্রেতারা।

বাজার করতে আসা জাহাঙ্গীর বলেন, মাছ আর গরুর মাংস তো অনেক আগেই আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই পরিবারের জন্য মাঝে মাঝে পোল্ট্রি মুরগি কিনতাম। এখন সেটার দামও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের মতো মানুষের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে মুরগি উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মুরগির খাদ্য, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাড়ার কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রমজান শেষ হয়ে আসায় বাজারে ছোলা ও ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিনির দামও আগের মতো ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে কিছুদিন ভোজ্যতেলের সংকট থাকলেও এখন সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। যদিও তাতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ক্রেতারা এক দোকানে না পেলেও অন্য দোকান ঘুরে তেল পাচ্ছেন। প্রতি লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা দরে।

এছাড়া বাজারে বেশকিছু সবজির দাম আগের মতই দেখা গেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ২০ টাকা কম। মূলত, ৬০ টাকার মধ্যেই করলা ছাড়া অন্যান্য প্রায় অধিকাংশ সবজি কেনা যাচ্ছে। প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে হয়তো সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদ সামনে রেখে বাজারে যে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে আপাতত স্বস্তির কোনো লক্ষণ দেখছেন না সাধারণ মানুষ।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়