Apan Desh | আপন দেশ

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২১:৫৩, ৭ অক্টোবর ২০২৬

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

ছবি: আপন দেশ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে আয়োজিত অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।

এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান রুমি এ খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির আওতায় থাকা চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ছয়টি এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে পরিচালনা করা হবে। এতে দূরপাল্লার পাশাপাশি আঞ্চলিক রুটে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের বহরে বড় ধরনের বৈচিত্র্য আসবে। বর্তমানে সংস্থাটির জেট উড়োজাহাজের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। এয়ারবাসের নতুন প্রজন্মের এ৩৫০-৯০০ ও এ৩২১নিও যুক্ত হলে বিমান একই সঙ্গে বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ পরিচালনা করবে।

এয়ারবাস কেনার এ উদ্যোগ বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনারও অংশ। 

আরও পড়ুন<<>>ধর্ম-বর্ণ কারো সুযোগে বাধা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

এর আগে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। পরে সে পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং যুক্ত হওয়ায় মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এয়ারবাস উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরবরাহের সময়সূচি এগিয়ে এনে ২০৩০ সালের আগেই উড়োজাহাজ পাওয়া শুরু করতে চায়।

মন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, বিমানের বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়েও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের পাশাপাশি এর আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করেছে বিমান। চলতি বছরের এপ্রিলে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর সেপ্টেম্বরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়। ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বোয়িংয়ের ২৫টি এবং এয়ারবাসের ১০টি মিলিয়ে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনায় মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে এয়ারবাসের চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও এবং বোয়িংয়ের বিভিন্ন মডেলের ওয়াইড-বডি ও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ রয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা ও আসন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে এ৩৫০-৯০০-এর মতো ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার রুটে ব্যবহারের মাধ্যমে বিমানের দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, এ৩২১নিও তুলনামূলকভাবে কম দূরত্বের রুটে পরিচালনার উপযোগী হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে।

নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের সক্ষমতা ধরে রাখতে উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এয়ারবাসের সঙ্গে এ চুক্তিকে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে বিমানের বহর ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে আরও বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়