Apan Desh | আপন দেশ

ঘুমের আগে রিলস দেখে নিজের যে ক্ষতি করছেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২২:৫০, ১১ মার্চ ২০২৬

ঘুমের আগে রিলস দেখে নিজের যে ক্ষতি করছেন

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস দেখার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। অনেকের কাছে রিলস এখন সহজ বিনোদনের একটি মাধ্যম। ব্যস্ত দিনের শেষে বিছানায় শুয়ে ফোন হাতে নিয়ে একের পর এক ছোট ভিডিও দেখা অনেকেরই নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এ অভ্যাস অজান্তেই শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় রিলস দেখা শুধু ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে রিলস দেখার সঙ্গে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ–এর ঝুঁকির একটি সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যে।

চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ৪ হাজার ৩১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যারা ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় ধরে রিলস বা ছোট ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না এবং শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন <<>> রমজানে মানসিক প্রশান্তি পেতে যে অভ্যাস জরুরি

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: রিলস দেখার আসক্তি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। দ্রুত গতির ছোট ভিডিওগুলো মস্তিষ্ককে একটানা উদ্দীপনার মধ্যে রাখে। এতে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং গভীরভাবে চিন্তা করার অভ্যাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অভ্যাস চলতে থাকলে সৃজনশীলতা কমে যেতে পারে এবং মানসিক চাপও বাড়তে পারে।

শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি: শারীরিক দিক থেকেও এর প্রভাব কম নয়। রিলস দেখার সময় সাধারণত মানুষ একই অবস্থায় দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে থাকে। এতে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে যায় এবং রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি স্ক্রিনের আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, যার ফলে শরীরের সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে হৃদস্পন্দন বাড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কীভাবে এ অভ্যাস কমানো যায়: বিশেষজ্ঞরা এ অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আনার পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে রিলস দেখা যেতে পারে। এছাড়া ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করলে ঘুমের মান ভালো থাকে।

ঘুমানোর সময় ফোন দূরে রেখে শুতে যাওয়া, বই পড়া বা হালকা সঙ্গীত শোনার মতো অভ্যাস তৈরি করলে শরীর ও মন দ্রুত শান্ত হয়। এতে ঘুমও গভীর হয় এবং শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়।

রিলস দেখা বিনোদনের একটি সহজ মাধ্যম হলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এ অভ্যাসে সচেতনতা ও সময় নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

আপন দেশ/এসএস

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়