ছবি: সংগৃহীত
রোজা মানে শুধু না খেয়ে থাকা নয়। রমজান মূলত আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস। সারা বছরের মানসিক অস্থিরতা ও ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া প্রশান্তি ফিরে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো এ মাস। তাই অপ্রয়োজনীয় অনেক অভ্যাস থেকে দূরে সরে আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পালনে বেশি মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।
বর্তমান সময়ে আমরা এমন অনেক কিছুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, যা আমাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। রমজানে এসব অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে এনে ইবাদত ও আত্মিক উন্নতির দিকে মনোযোগ দিলে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব।
১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কমান: অনেকেই দিনের বড় একটি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান। রমজানে চাইলে এসব মাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকা যেতে পারে। প্রয়োজনে অ্যাপগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা বা ব্যবহারের সময় সীমিত করা যেতে পারে। এ সময়টুকু ইবাদত, জিকির, দোয়া বা কোরআন তেলাওয়াতে ব্যয় করলে তা বেশি উপকারী হবে।
২. কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করুন: সম্ভব হলে রোজা ও নামাজের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে কাজের সময়সূচি ঠিক করার চেষ্টা করুন। অনেক কর্মস্থলে রমজান উপলক্ষে কর্মঘণ্টা কমানো হয়। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আনা যেতে পারে। নিজের প্রতিষ্ঠান থাকলে কর্মীদের জন্যও এমন সুবিধা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
৩. ছোট ছোট বিরতিতে ইবাদত করুন: ব্যস্ততার মাঝেও ইবাদতের জন্য সময় বের করা সম্ভব। কাজের ফাঁকে কোরআনের কয়েকটি আয়াত পড়া, জিকির করা বা দোয়া করা যেতে পারে। এমনকি নামাজের পর কয়েক মিনিট সময় নিয়েও আল্লাহকে স্মরণ করা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
আরও পড়ুন <<>> রোজায় ঘরোয়াভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
৪. আধ্যাত্মিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিন: নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ধর্মীয় কাজের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রাখুন। ব্যস্ততার কারণে যেন এসব দায়িত্ব ভুলে না যান, সে জন্য ফোনে অনুস্মারক বা অ্যালার্ম ব্যবহার করতে পারেন। এতে নিয়মিত ইবাদতের অভ্যাস গড়ে উঠবে।
৫. কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: রমজানে অতিরিক্ত কাজ বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা জরুরি। কাজগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী সাজিয়ে নিন এবং অপ্রয়োজনীয় দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। এতে শরীর ও মন দুটিই স্বস্তিতে থাকবে এবং ইবাদতের জন্য সময় বের করা সহজ হবে।
রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি মানসিক শান্তি ও আত্মিক উন্নতিরও সময়। সচেতনভাবে কিছু অভ্যাস বদলে ফেলতে পারলে এ মাসটি হয়ে উঠতে পারে আত্মশুদ্ধি ও প্রশান্তির এক অনন্য সুযোগ।
আপন দেশ/এসএস




































