ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে দেশে এক নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যার নাম, মাইক্রোপ্লাস্টিক। সম্প্রতি টুটপেস্টে এর উপস্থিতি নিয়ে চলছে নানা তোরজোর। তবে শুধু টুটপেস্ট বা ব্রাশে নয়, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে আপনার রান্নাঘরেও।
রান্নাঘরের স্পঞ্জ দিয়ে প্রতিদিন থালা-বাসন ধুচ্ছেন? দেখতে সাধারণ মনে হলেও এ স্পঞ্জই অজান্তে পরিবেশে ছড়িয়ে দিতে পারে অসংখ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।
সাইন্স ডেইলির প্রতিবেদনে জানা যায় সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে নিয়মিত ব্যবহারে রান্নাঘরের স্পঞ্জ ক্ষয় হয়ে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ছাড়ে। আর এটা শেষ পর্যন্ত নদী, সমুদ্র ও মাটিতে পৌঁছে পরিবেশ দূষণে ভূমিকা রাখে।
জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বনের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় রান্নাঘরের স্পঞ্জ থেকে প্রতিদিনের ব্যবহারজনিত মাইক্রোপ্লাস্টিক নিঃসরণের পরিমাণ এবং এর পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় তিন ধরনের রান্নাঘরের স্পঞ্জ ব্যবহার করে দেখা হয়, প্রতিটি স্পঞ্জই ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে কিছু না কিছু উপাদান হারায়।
অর্থাৎ, স্পঞ্জ ক্ষয় হওয়ার ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বের হয়ে পানির সঙ্গে মিশে যায়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একজন মানুষের ব্যবহৃত স্পঞ্জ থেকে বছরে ০.৬৮ গ্রাম থেকে ৪.২১ গ্রাম পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হতে পারে। যেসব স্পঞ্জে প্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি, সেগুলো থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি কণা বের হয়।
গবেষণায় জার্মানি ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা নিজেদের দৈনন্দিন ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহে অংশ নেন। একই সঙ্গে গবেষকরা 'স্পঞ্জবট' নামে একটি স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষার যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে স্পঞ্জের ক্ষয় পর্যবেক্ষণ করেন।
বাস্তব ব্যবহার এবং পরীক্ষাগারের তথ্য একত্র করে গবেষণার ফলাফল আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, থালা-বাসন হাতে ধোয়ার ফলে পরিবেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের কারণে।
তবে যদি একটি নির্দিষ্ট ধরনের স্পঞ্জ জার্মানির প্রতিটি পরিবার ব্যবহার করে, তাহলে বছরে প্রায় ৩৫৫ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হতে পারে বলে।
আরও পড়ুন <<>> চায়ের সঙ্গে বিস্কুট, নিজের ১২টা বাজাচ্ছেন না তো?
যদিও বর্জ্য শোধনাগার অনেক কণাই আটকে দেয়, তবু উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নদী, হ্রদ, সমুদ্র ও মাটিতে পৌঁছে যেতে পারে।
অল্প ব্যবহারে স্পঞ্জ ফেলে না দিয়ে যতদিন নিরাপদে ব্যবহার করা যায়, ততদিন ব্যবহার করুন। এতে নতুন স্পঞ্জ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবহারও কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে রান্নাঘরের ছোট স্পঞ্জ পরিবেশের ক্ষতি করছে এটা ঠিক তবে সচেতন থাকলে কিন্তু সমাধান আছে। আমরা য দি পরিবেশ আর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সচেতন হই তাহলে পরিবেশও ভালো থাকবে আর আমরাও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারবে।
আপন দেশ/এসএস




































