ছবি: সংগৃহীত
সকালের এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে দুই-তিনটি বিস্কুট খাওয়া অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। কেউ কেউ আবার শুধু বিস্কুট খাওয়ার জন্যই চা পান করেন। তবে এ অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে লন্ডনের চিকিৎসক ডা. সুমিত শর্মা বলেন, প্রতিদিন সকালে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ডা. শর্মা জানান, দীর্ঘদিন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভোগা রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি একটি সাধারণ অভ্যাস লক্ষ্য করেছেন। অনেকেই মিষ্টি বা কোমল পানীয়কে দায়ী করলেও, নিয়মিত চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়াও বড় একটি কারণ হতে পারে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীরকে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসকের ভাষ্য, প্রতিদিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বারবার বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করে। একসময় কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সাড়া দিতে শুরু করে। এতে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, পেটে চর্বি জমা এবং শেষ পর্যন্ত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডা. শর্মার মতে, বেশিরভাগ বিস্কুটে এমন উপাদান থাকে যা দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত ময়দা, চিনি ও পরিশোধিত ভেজিটেবল অয়েল। এসব বিস্কুটে ফাইবার ও প্রোটিনও খুব কম থাকে।
আরও পড়ুন <<>> আজ আন্তর্জাতিক স্ব-যত্ন দিবস
তিনি বলেন, একটি বিস্কুট খেলেও রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ডাইজেস্টিভ বিস্কুটের গ্লাইসেমিক প্রতিক্রিয়াও সাদা পাউরুটির কাছাকাছি হতে পারে।
চায়ের সঙ্গে দুটি বিস্কুট খেলে ইনসুলিনের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এরপর ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা লাগে। তখন আরও বিস্কুট খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এভাবেই একটি অস্বাস্থ্যকর চক্র তৈরি হয়।
তিনি আরও জানান, আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে মস্তিষ্কের তৃপ্তির সংকেত দুর্বল হয়ে যায়। চর্বি, চিনি ও লবণের নির্দিষ্ট সংমিশ্রণ ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে একটি বিস্কুট খাওয়ার পর আরও কয়েকটি খেয়ে ফেলা খুবই সাধারণ ঘটনা।
ডা. শর্মার পরামর্শ, অন্তত চার সপ্তাহের জন্য বিস্কুট খাওয়া বন্ধ রেখে প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর নাশতা বেছে নেয়া উচিত। যেমন সেদ্ধ ডিম, পনির, কটেজ চিজ, দই, চিজ ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম।
তার মতে, এ পরিবর্তনের ফলে প্রথম সপ্তাহেই বিকেলের ক্লান্তি কমতে পারে। তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে খাবারের ফাঁকে ক্ষুধাও কম লাগবে। দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও শরীরের বিপাকক্রিয়াও ভালো থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে সকালের চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস বদলে স্বাস্থ্যকর নাশতা বেছে নেয়াই ভালো।
আপন দেশ/এসএস




































