ছবি : সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। অতি ক্ষুদ্র এ প্লাস্টিক কণা চোখে দেখা যায় না। তবে খাবার, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কণা রক্ত, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, যকৃত, কিডনি, প্লীহা, হাড় এমনকি বুকের দুধেও পাওয়া গেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের আকার ৫ মিলিমিটারের কম। তাই এগুলো সহজে চোখে পড়ে না। মাটি, পানি কিংবা খাবারের সঙ্গে মিশে অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করে।
যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ারে ১৮৪৩ সালে শুরু হওয়া বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন কৃষি গবেষণার সংরক্ষিত নমুনাতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে।
রথমস্টেড রিসার্চের গবেষক অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড জানান, ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকের নমুনায় তেজস্ক্রিয় উপাদানের পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকও পাওয়া গেছে।
একটি বহুল আলোচিত গবেষণায় বলা হয়েছে, একজন মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ৫২ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করেন। যদিও এ সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও গবেষকদের মতে মানুষের শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে।
গবেষকরা বলেন, প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ দিয়ে চা তৈরি বা প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করার মতো দৈনন্দিন অভ্যাসও শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের কারণ হতে পারে। শরীর এসব কণা ভাঙতে পারে না। ফলে এগুলো জমে দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে।
আরও পড়ুন <<>> রান্নাঘরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, কী বলছে গবেষকরা?
সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায়ও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে চীনের এক গবেষণায় মানুষের হাড় ও পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এতে হাড় ও পেশির কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতালির এক গবেষণায় হৃদযন্ত্রের ধমনীতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যাদের ধমনীতে এসব কণা ছিল, তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক বা আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি ৪ দশমিক ৫ গুণ বেশি দেখা গেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় মৃত মানুষের মস্তিষ্কে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের মস্তিষ্কে অন্যদের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
তবে গবেষকরা এখনো বলছেন না যে মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হৃদরোগ বা ডিমেনশিয়ার কারণ। তাদের মতে, এসব কণা দীর্ঘদিন শরীরে থেকে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এক লিটার বোতলজাত পানিতে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা থাকতে পারে। এর মধ্যে নাইলন, পলিস্টাইরিনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যানোপ্লাস্টিক আরও বেশি উদ্বেগের কারণ। কারণ এগুলো কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বদলে দিতে পারে।
গবেষকদের ধারণা, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক, ক্যানসার আক্রান্ত এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগে ভোগা ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে এসব কণা ওষুধের কার্যকারিতাও কমিয়ে দিতে পারে।
বর্তমানে মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাস, পানি ও খাবারে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই নিরাপদ বিকল্প উদ্ভাবনে কাজ করছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।
আপন দেশ/এসএস
আপন দেশ/এসএস




































