ফাইল ছবি
শীতকাল এলেই ত্বকের শুষ্কতা ও কুঁচকে যাওয়ার সমস্যা অনেকের জীবনযাত্রায় নতুন করে দেখা দেয়। শীত কম হোক বা বেশি হোক, এ সমস্যা প্রায় সবার মধ্যেই দেখা যায়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত গৃহস্থালির কাজে যুক্ত, তাদের ভোগান্তি বেশি হয়। কাপড় ধোয়া, থালা-বাসন পরিষ্কার, রান্নার সময় পানি ব্যবহার কিংবা যেকোনো কারণে পানির সংস্পর্শে এলে হাতের তালু দ্রুত কুঁচকে যায়। এতে দৈনন্দিন কাজেও অস্বস্তি তৈরি হয়।
শীতে শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সবার ত্বকেই শুষ্কতা বাড়ে। অনেকেই এ পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। কিন্তু কেন ত্বক শুষ্ক হয়ে কুঁচকে যায়, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় সমস্যাটি আরও বাড়ে।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মৃদুলা পাত্র পাল এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ত্বকের ভেতরের কোষগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় জলীয় অংশে পরিপূর্ণ থাকে। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। একই সঙ্গে ত্বকের কোষ থেকেও জলীয় অংশ কমে যায়। এর ফলে হাতের তালু ও পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে কুঁচকে যায়। তখন ত্বক রুক্ষ হয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিক কাজেও অসুবিধা দেখা দেয়।
শীতে শুধু শুষ্কতা নয়, চামড়া ঝরে পড়ার সমস্যাও অনেকের মধ্যে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় পানি ব্যবহার করলে ত্বকের ওপরের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ধুয়ে যায়। এ তেল ত্বককে সুরক্ষা দেয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সিবাম কমে গেলে ত্বক সহজে পানি শোষণ করে। এতে ত্বক আরও কুঁচকে যায় এবং চামড়া ওঠার প্রবণতা বাড়ে।
শীতে এ সমস্যা হাতে যেমন দেখা যায়, তেমনি পায়ের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা তৈরি হয়। যদিও চামড়া ঝরে পড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, শীতকালে এ ঝরার মাত্রা কিছুটা বেশি চোখে পড়ে।
আরও পড়ুন <<>> বিয়ের আগে বর-কনের যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি
ত্বকের এ সমস্যাগুলো সাধারণত গুরুতর নয়। তবে ঝরে পড়া চামড়া কখনো কখনো খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তা পেটে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের রোগ তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। তবে নিয়মিত যত্ন নিলে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ত্বক সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার। দিনে কয়েকবার হাতে ও পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। পানি ব্যবহারের পর হাত ভালোভাবে মুছে নিয়ে ক্রিম বা তেল ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা কমে। একই সঙ্গে শরীরে পানির ঘাটতি এড়ানো জরুরি। শীতে অনেকেই পানি কম পান করেন। এতে শরীরে পানির অভাব তৈরি হয় এবং ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে ওঠে।
একজন সুস্থ মানুষের দিনে গড়ে ২.৫-৩ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। তবে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করতে হবে।
শীতের মৌসুমি শাক-সবজি খাদ্যতালিকায় রাখাও ত্বকের জন্য উপকারী। পুষ্টিকর খাবার শরীরের ভেতর থেকে ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শীতকালে ত্বকের শুষ্কতা ও কুঁচকে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
আপন দেশ/এসএস




































