Apan Desh | আপন দেশ

কানাডায় এমপি মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশি ডলি বেগম

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:১৫, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কানাডায় এমপি মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশি ডলি বেগম

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসন। দীর্ঘদিন এটি ছিল লিবারেল পার্টির শক্ত ঘাঁটি। সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ের পর আসনটি শূন্য হয়। সে প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ডলি বেগম।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) কানাডার স্থানীয় সময় সকালে লিবারেল পার্টি অব কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানায়। দলটি জানায়, আসন্ন ফেডারেল উপ-নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডলি বেগম।

ডলি বেগম কানাডার আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি। তিনি ২০১৮ সাল থেকে স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক এমপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কুইন্স পার্কে তিনি অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডারের দায়িত্বও পালন করেন। বিরোধী দলে থেকেও তিনি সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা রাখেন। পরপর তিনবার বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন।

লিবারেল পার্টি অব কানাডার প্রেসিডেন্ট সাচিত মেহরা এক বিবৃতিতে ডলি বেগমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ডলি বেগমের জনসেবার রেকর্ড অনন্য। তিনি তাকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন নেতৃত্বে ডলি বেগমের সংযুক্তি দলকে আরও শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন <<>> ইতালির নাগরিকত্ব নিয়ে সুখবর

ডলি বেগম বলেন, লিবারেল দলে যোগ দেয়ার পেছনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত সাত বছর তিনি স্কারবরো সাউথওয়েস্টের মানুষের পাশে ছিলেন। বর্তমান সময়ে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করার প্রয়োজন অনুভব করেন। তার লক্ষ্য শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।

তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেন। সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার কথাও বলেন। পাশাপাশি কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডলি বেগমের পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মনু নদের পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের সঙ্গে তিনি ১২ বছর বয়সে কানাডায় যান। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

টরন্টোর প্রবাসী কমিউনিটি নেতা দেলোয়ার এলাহী বলেন, এ মনোনয়ন কানাডার রাজনীতিতে ব্যক্তির সততা ও কর্মদক্ষতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা ও জনসংযোগ এখানে বেশি মূল্য পায়। তার মতে, ডলি বেগম সে গ্রহণযোগ্যতার জায়গায় পৌঁছেছেন। তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল রাজনীতিতে ডলি বেগমের যাত্রা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ সাফল্য কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হতে উৎসাহ পাবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়