ছবি সংগৃহীত
ইরান যদি আমাকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন। খবর আলজাজিরার।
ট্রাম্প লেখেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইরান সরকার যদি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।
ট্রাম্পের এ প্রকাশ্য হুমকি এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে। সম্প্রতি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার নতুন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, যদি ইরান সরকার বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট—অর্থাৎ আমাকে হত্যা করার বা হত্যার চেষ্টা করার হুমকি কার্যকর করে, তবে ১০০০টি মিসাইল ইতোমধ্যেই ‘লক অ্যান্ড লোডেড’ (লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে প্রস্তুত) অবস্থায় ইরানের দিকে তাক করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, প্রথম দফার এ আক্রমণের পর আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে ইরানে আঘাত হানবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, সম্ভাব্য এ হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় সমস্ত সামরিক আদেশ দিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশা ইতোমধ্যেই জারি করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী এক বছর মেয়াদের জন্য (যা প্রয়োজনে আরও বর্ধিত করা হতে পারে) ইরানের সমস্ত এলাকাকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন এবং ধ্বংস করে দেয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।
আরও পড়ুন<<>>ভিসা নিয়ে বাংলাদেশসহ ৭ দেশকে সুখবর দিল সৌদি আরব
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে একজন রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক অন্য একটি সার্বভৌম দেশকে এভাবে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেয়ার সরাসরি সামরিক হুমকি বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
এর আগে আরেক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ।
ট্রাম্পের এ দাবির বিরোধিতা করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার অনুরোধ তারা করেনি। তবে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের স্বাগত জানিয়েছে ইরান। রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারের প্রতিনিধিরা শুক্রবার (১০ জুলাই) ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরান ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করেছে এমন গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে, যুদ্ধে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেয়া বিপুল সংখ্যক মানুষের হাতে 'উই উইল কিল ট্রাম্প' লেখা ব্যানারও দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই, বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। এরপর শুরু হওয়া সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধে এখনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































