ছবি সংগৃহীত
‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে আলোচনায় থাকা নরওয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফুটবল খেলছে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটির সামনে এবার ইংল্যান্ড। আর্লিং হলান্ডকে ঘিরে গড়ে ওঠা নরওয়ের আক্রমণভাগ ও তাদের বিল্ড-আপ কৌশল থামানোই হতে পারে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেলের ‘অগ্নিপরীক্ষা’।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৩টায় মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক নরওয়ে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে, অন্যদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা নরওয়ে এবারের আসরে রীতিমতো রূপকথার জন্ম দিয়েছে। দলের প্রাণভোমরা আর্লিং হলান্ড গোল করার নেশায় মত্ত থাকলেও তার মাঠের বাইরের রসবোধ ও বর্ণিল ব্যক্তিত্ব পুরো ফুটবল বিশ্বে এক নতুন উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। বিপরীতে ইংল্যান্ড এবার শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছে। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া ও পানামাকে হারিয়ে এবং ঘানার সঙ্গে ড্র করে শীর্ষস্থান অর্জন করা ইংলিশরা
শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে। হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহ্যামের রসায়ন দলের ১১টি গোলের মধ্যে ১০টিতেই অবদান রেখেছে, যা ইংলিশদের সেমিফাইনালের দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। পাঁচ ম্যাচে মাত্র দুটি ক্লিনশিট পাওয়া ইংলিশদের রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে হলান্ডের গতির সামনে।
আরও পড়ুন<<>>বেলজিয়ামের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন
বর্তমানে সাত গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা এ নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। যদিও অপটার সুপার কম্পিউটার ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৫০.৪ শতাংশ বলে নির্ধারণ করেছে, তবে মাঠের লড়াইয়ে পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই।
দলের বড় ধাক্কা হিসেবে ইংল্যান্ড পাচ্ছে না লাল কার্ডের কারণে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়া ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ান্সাহকে। এছাড়া হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে মার্ক গুয়েহি ও রিস জেমসকে নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে, আর কবজির চোটে জর্ডান হেন্ডারসন পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন।
অন্যদিকে, নরওয়ে শিবিরে কোনো ইনজুরি বা নিষেধাজ্ঞার খবর নেই, যা তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নরওয়ে ও ইংল্যান্ড এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো মুখোমুখি হয়নি। সব মিলিয়ে অতীতে ১২ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ড সাতবার জয় পেয়েছে, নরওয়ের জয় দুটি এবং তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আজকের এ বিজয়ী দল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য সে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































