Apan Desh | আপন দেশ

হরমুজ বন্ধ: ভারতে এলপিজি তীব্র সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ১৩ মার্চ ২০২৬

হরমুজ বন্ধ: ভারতে এলপিজি তীব্র সংকট

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির বন্ধ হওয়ার পর ভারতে এলপিজি সরবরাহে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে বহু পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, ফলে গ্যাস সিলিন্ডারের বুকিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থাও এ চাপে সামলাতে পারছে না; অনলাইন, হোয়াটসঅ্যাপ এবং আইভিআরএস নম্বরে ‘সার্ভার ডাউন’ বার্তা দেখানো হচ্ছে। অনেককে বাধ্য হয়ে সরাসরি ডিলারের অফিসে গিয়ে বুকিং করতে হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকার গৃহস্থালি এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দিলেও ডেলিভারিতে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ডিলাররা জানিয়েছে, বাণিজ্যিক এলপিজি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ, আর গৃহস্থালির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে। ফেডারেশন অব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অব ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট শশী কান্ত শর্মা বলেছেন, বুকিং প্রায় দশগুণ বেড়ে গেছে, যা বর্তমান ব্যবস্থার ক্ষমতার বাইরে।

সরকার সাময়িকভাবে কেরোসিন ও কয়লাকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাসিক গড় এলপিজি ব্যবহারের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময় ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। দিল্লি, গুরগাঁও, মুম্বাই, কলকাতা, লখনউ ও চেন্নাইসহ শহরগুলিতে ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের সামনে ভোক্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

হায়দরাবাদের টিফিন কর্মী থেকে স্কুল-ছাত্ররা পর্যন্ত এলপিজি সংকটের প্রভাব অনুভব করছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছে। কেরালায় হোটেল, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, হোস্টেল ও মেসগুলোও বিকল্প জ্বালানি খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে। রাস্তার খাবারের দোকানগুলোও সিলিন্ডার সংকটে বন্ধ বা সীমিত মেনুতে কাজ করছে।

স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সংকটের প্রভাব পড়েছে। হরিয়ানা রাজ্যের কিছু স্কুলে রান্নাঘর বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। কিছু মেসে সীমিত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত এলপিজি না থাকায় দরিদ্র শিক্ষার্থীরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

মুম্বাই ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে সিলিন্ডারের জন্য লম্বা লাইন দেখা গেছে। অনলাইনে বুকিং কাজ না করায় মানুষ সরাসরি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বাণিজ্যিক এলপিজির ঘাটতির কারণে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও কনভেনশন সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত। কেরালায় প্রায় ৪০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ হতে পারে। মুম্বাইয়ে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের ব্যবসা প্রভাবিত হয়েছে। অনেক সরবরাহকারী সিলিন্ডারের জন্য প্রায় দ্বিগুণ দাম নিচ্ছেন। ইলেকট্রিক কুকার ও ইনডাকশন কুকারের বিক্রিও ২৫–৩০ গুণ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন <<>> হাদীর হত্যাকারীদের ফেরত দেয়া নিয়ে ভারতের অবস্থান

ভারতের খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহমন্ত্রী কে এইচ মুনিয়াপ্পা জানিয়েছেন, ৭–১০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক এলপিজির ঘাটতি সমাধান হবে। কর্ণাটকে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাসপাতাল, হোস্টেল ও স্কুলে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তবে বাণিজ্যিক এলপিজি রেশনিংয়ের কারণে হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারগুলো সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়তে পারে। ইরান সরকার দুটি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়ায় ১০ দিনের মধ্যে সংকটের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে, যদিও গৃহস্থালি গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জনজীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement