Apan Desh | আপন দেশ

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:২০, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৩:৫০, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

ছবি: আপন দেশ

বিদ্যুৎ লাইসেন্স কেলেঙ্কারির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট দফতর। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’র বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আপাতত দুই নিম্নপদস্থ কর্মচারীকে বদলির সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকছে কর্তৃপক্ষ। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপপ্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক ও কল্যাণ বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোল্লা জানান, অফিস সহায়ক সাখাওয়াত হোসেন বাবু ও অফিস সহকারী উইলিয়াম হোসেনকে শিগগিরই বদলি করা হবে। আজ-কালের মধ্যে আদেশ হবে। তবে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এ কি শুধুই ‘লোক দেখানো ব্যবস্থা’?

গত ১৯ এপ্রিল আপন দেশ-এ ‘বিদ্যুৎ লাইসেন্স বাণিজ্যে দুই কর্মচারী ঘুষ তুলেছে ৬৬৪ কোটি টাকা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

দফতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের পর চাপে পড়ে দ্রুত এ বদলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু মূল হোতাদের আড়াল করতেই এ পদক্ষেপ, এমন অভিযোগও উঠেছে।

কারণ, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ঘুষ-বাণিজ্যে কেবল দুই কর্মচারীর সম্পৃক্ততা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্স বাণিজ্যের আড়ালে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোল্লা ওরফে আতা মোল্লা। ঘুষে বাটোয়ারা পৌঁছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পকেটে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক প্রভাব ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে আতাউর মোল্লারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার আপন দেশকে বলেন, ‘এ সেক্টরে দুর্নীতির শেষ নেই। শুধু বদলি নয়, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এ দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন দুর্নীতি দমন কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্পদের হিসাব যাচাই করা। তবে, প্রশ্ন থেকেই যায় পিয়নের এতো টাকা হলে, বড় কর্তার আয় কত?

ঘটনাটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। তা হলো, ৬৬৪ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ কি কেবল বদলির মধ্যেই চাপা পড়ে যাবে, নাকি জবাবদিহির প্রক্রিয়া শুরু হবে?

আপন দেশ/এবি/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়