Apan Desh | আপন দেশ

হরমুজে নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫১, ১ মে ২০২৬

হরমুজে নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কৌশলগত ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ জলপথে নতুন ব্যবস্থাপনা ও আইনি নিয়ম চালু করবে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল ইরান তাদের দক্ষিণ উপকূলে ১৬২২ সালে উপনিবেশবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে। খামেনি তার বক্তব্যে পারস্য উপসাগরকে মুসলিম বিশ্বের জন্য ‘অপরিবর্তনীয় নিয়ামত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মোজতবা খামেনি বলেন, এ জলরাশি ও হরমুজ প্রণালি শুধু জাতিগুলোর মধ্যে সংযোগই তৈরি করে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য পথ হিসেবেও কাজ করে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এ কৌশলগত সম্পদকে কেন্দ্র করে বহু দেশের লোভ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ও আমেরিকান শক্তিগুলোর বারবার আগ্রাসন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও ক্ষতির ঘটনাগুলোকে তিনি ‘বিশ্বের দম্ভশালী শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সে আগ্রাসনের সর্বশেষ উদাহরণ।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরের দীর্ঘতম স্থল উপকূল থাকা দেশ হিসেবে ইরান এ অঞ্চলের স্বাধীনতা রক্ষায় সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন <<>> ‘ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে’

তিনি পর্তুগিজদের বিতাড়ন থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালির মুক্তি, ডাচ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইতিহাসও তুলে ধরেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অলৌকিক জাগরণের কথাও তুলে ধরেন তিনি আরও বলেন, ইরানের লাখ লাখ মানুষ এখন জায়নবাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন দিতে প্রস্তুত। বিদেশি আগ্রাসনের মুখে স্বদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকারে স্বাক্ষরকারী ৩ কোটি বেশি ইরানির কথাও উল্লেখ করেন মোজতবা খামেনি।

খামেনি বলেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রায় ৯ কোটি ইরানি নাগরিক তাদের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র, প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তারা এগুলোকে ঠিক সেভাবেই রক্ষা করবে যেভাবে তারা তাদের সামুদ্রিক, স্থল ও আকাশসীমা রক্ষা করে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালির জলপথে শত্রুভাবাপন্ন শক্তির অপব্যবহার বন্ধ করা হবে। এ জলপথটি নতুন নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হবে। আইনি নিয়মকানুন এবং নতুন ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ এ অঞ্চলের সকল জাতির জন্য স্বস্তি ও অগ্রগতি বয়ে আনবে এবং এর অর্থনৈতিক আশীর্বাদ জাতির হৃদয়কে আনন্দিত করবে, আর তা হবে আল্লাহর ইচ্ছায়।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়