Apan Desh | আপন দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কার ২৫৭১ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫১, ১০ মে ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কার ২৫৭১ শিক্ষার্থী

ফাইল ছবি

দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে নকল ও অসদুপায় অবলম্বনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ১৮ মাসে অনুষ্ঠিত ১৮টি পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুই হাজার ৫৭১ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি বড় ধরনের নেতিবাচক সংকেত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতর ও শৃঙ্খলা কমিটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি শাস্তির মুখে পড়েছেন অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। শুধু অনার্সের ছয়টি পরীক্ষায়ই বহিষ্কৃত হয়েছেন এক হাজার ২৭২ জন। যা মোট শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক। এর মধ্যে ‘অনার্স তৃতীয় বর্ষ-২০২৩’ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৩৩৭ জন শিক্ষার্থী সাজা পেয়েছেন। এছাড়া ‘অনার্স চতুর্থ বর্ষ-২০২৩’ পরীক্ষায় ৩১৮ জন এবং ‘অনার্স চতুর্থ বর্ষ-২০২২’ পরীক্ষায় ৩০৪ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু অনার্স নয়, ডিগ্রি, মাস্টার্স ও এলএলবি পরীক্ষাগুলোতেও নকলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ডিগ্রি পাস কোর্সের ছয়টি পরীক্ষায় মোট ৫৩১ জন সাজা পেয়েছেন। এছাড়া মাস্টার্স ও প্রিলিমিনারি পর্যায়ের চারটি পরীক্ষায় সাজে পেয়েছেন ৩৯৪ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে এলএলবি–এর মাত্র দুটি পরীক্ষায় বহিষ্কৃত হয়েছেন ২৮৫ জন শিক্ষার্থী।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে। অনার্স তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের তিনটি পরীক্ষায় মোট ৯৫৯ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন, যা অনার্স পর্যায়ের মোট শাস্তির ৭৫ শতাংশেরও বেশি।

আরও পড়ুন <<>> প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে জরুরি নির্দেশনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধিতে ১৯ ধরনের অপরাধের জন্য ছয় স্তরের শাস্তির বিধান রয়েছে। সাধারণ অনিয়মে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল থেকে শুরু করে গুরুতর জালিয়াতি, শিক্ষক লাঞ্ছনা বা নাশকতার ঘটনায় চার বছর পর্যন্ত বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় এখন শুধু চিরকুট নয়, মোবাইল ফোন ও ক্ষুদ্র ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের প্রবণতাও বাড়ছে। বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত ও হিসাববিজ্ঞানের মতো বিষয়ে প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি বেশি দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহে কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। সেসময় তাৎক্ষণিকভাবে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারও করা হয়।

উপাচার্য বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। নকলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করলে শিক্ষকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও সেশনজট কমানোর কাজ চলছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়