ছবি: আপন দেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদেরকে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এ মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আমরা সে শপথ গ্রহণ করি।
রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী (১০-১৩ মে) এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের আধুনিকায়ন, পেশাদারিত্ব এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার ওপর আলোকপাত করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগে শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, শুধুমাত্র স্মরণের মধ্যে দিয়েই আপনাদের আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে সকল শহীদ পুলিশ সদস্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে সে স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’ এবং অন্যদিকে রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধই স্বাধীনতার লড়াইকে বেগবান করেছিল। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন ঢাকা সেনানিবাসে পাকিস্তানি সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল, তখন সকল পুলিশ সদস্যদের কেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখা হয়েছিল তা গবেষকদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার।
আরও পড়ুন<<>>পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, বছরের পর পর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।
পুলিশের সক্ষমতার প্রশংসা করে তারেক রহমান আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা, বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।
এর আগে পুলিশের বার্ষিক প্যারেডের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মনোমুগ্ধকর প্যারেড প্রদর্শনের জন্য অংশগ্রহণকারী পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সরকারের উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































