ছবি: আপন দেশ
আজ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার (১০ মে) বিশ্ব মা দিবস। ‘মা’ শব্দটি ছোট হলেও এর গভীরতা অসীম। এ একটি শব্দের মধ্যেই জড়িয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল ভালোবাসা, অকৃত্রিম মমতা, ত্যাগ, নিরাপত্তা আর নির্ভরতার অনন্ত অনুভূতি। সন্তানের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে যিনি নিঃশব্দে পাশে থাকেন, নিজের সুখ-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, তিনিই মা।
বিশ্ব মা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে উঠে এসেছে মাকে ঘিরে নানা আবেগঘন স্মৃতি, সংগ্রামের গল্প এবং দূরে থেকেও মায়ের প্রতি গভীর টান।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে মায়ের উৎসাহ ও ভালোবাসাই তাদের এগিয়ে চলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। কেউ মায়ের ত্যাগের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছেন, আবার কেউ বলেছেন, ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের একটি ফোন কল তাদের মানসিক প্রশান্তি ও সাহসের প্রধান উৎস।
বাকৃবি শিক্ষার্থী আহসানুল একরাম বলেন, ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি, কিন্তু যেন ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই। জগতের সকল বলিয়ান মহানায়ক মাকে ভালোবেসে মায়ের দোয়ায় আজ অম্লান। ‘মা দিবস’ শুধু একটি দিন নয়, মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ মুহূর্ত। আমার মা একজন আইনজীবী নারী, তবুও কখনো আমাদের প্রতি তার দায়িত্ব ও ভালোবাসায় কমতি রাখেননি। নিজের ক্লান্তি ভুলে তিনি সবসময় আমাদের হাসি ও স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়েছেন। মায়ের কাছ থেকেই শিখেছি, পরিশ্রম মানুষকে শক্ত করে, আর ভালোবাসা মানুষকে সুন্দর করে তোলে। তিনি শুধু আমার মা নন, আমার সাহস, অনুপ্রেরণা ও জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
একজন কর্মজীবী মা প্রতিদিন নিজের ইচ্ছাকে আড়াল করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। তার নীরব ত্যাগ আর অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্যই আজ আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাই। পৃথিবীর সব ভালোবাসার মধ্যে মায়ের ভালোবাসাই সবচেয়ে নিঃস্বার্থ। মা, তোমার জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর অশেষ কৃতজ্ঞতা। তুমি আছ বলেই জীবন এত সুন্দর। শুভ মা দিবস! জীবনের প্রতিটি দিন হোক মা দিবস। ভালো থাকুক সব মায়েরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রামিসা ইসরাক প্রাপ্তি নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজ ১০ মে, বিশ্বের প্রতিটি সন্তানের মাতৃস্নেহের স্মৃতিকাতরতায় সিক্ত হওয়ার দিন। আমারও আজ সকাল থেকেই মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। আমি তো মায়ের একটিমাত্র ছানা, খুব ছোটবেলা থেকে মা আমার ছায়াসঙ্গী।
আরও পড়ুন<<>>ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে উত্তাল ইডেন কলেজ
মায়ের নাম রাশেদা এর সঙ্গে মিল রেখে আমার নাম রামিসা এবং বাবার নাম ইসমাইল থেকে আমার নাম ইসরাক। আর যেহেতু তাদের একটিমাত্র মেয়ে আমি, তাই ডাকনাম প্রাপ্তি। কিন্তু মা আমাকে “মানিক” বলেই ডাকেন। ভার্সিটিতে এত ভারী ব্যাগ বইতে গিয়ে মনে পড়ে, ছোটবেলায় আমার স্কুল যাওয়ার পথে আমার কষ্ট হবে ভেবে স্কুল ব্যাগটি মা নিজের কাঁধে নিতেন। নিজের হাতে যত্ন করে টিফিন বানিয়ে দিতেন, কখনো খোলাজালি পিঠা আর ডিম, তো কখনো পোলাও।
ঘুম থেকে হাত বুলিয়ে ডেকে বলতেন, “মানিক উঠে পড়”। মা আমাকে যত্ন করে খাইয়ে পাঠাতেন, ফিরলে নিজের হাতে নোট তৈরি করে দিতেন। আমার জন্য অনেক খেলনা আর ড্রেস কিনে নিয়ে আসতেন। এত বছর পরেও যখন মায়ের কোলে ফিরি, এত শান্তি অনুভব করি, যেটা আর কোথাও পাইনি। এখন বুঝি, মায়ের শাসন না পেলে আজ আমি এ অবস্থানে থাকতাম না। যখন শুনি মা অসুস্থ, ইচ্ছে করে ছুটে চলে যেতে, কিন্তু আমি যে এখানে দায়বদ্ধ। তাই হয়তো কবিগুরু রবিঠাকুর লিখেছেন, “মা, তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়নজলে ভাসি।” মা, তোমাকে কোনোদিন বলা হয়নি যে তোমাকে অনেক ভালোবাসি। দোয়া করবে যেন তোমার মেয়ে একদিন ভালো একজন মানুষ হয়, যেমনটা তুমি চাও; তুমি যে আমার একমাত্র রাণী। আল্লাহ প্রত্যেক মাকে ভালো রাখুক। আমিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী পূর্ণতা বসাক বলেন, মা, এক চিরন্তন আশীর্বাদ। মা মানে ভোরের প্রথম আলো। ক্লান্ত দিনের শেষে এক টুকরো নীরব শান্তি। তিনি রাগ করেন, বকেন, তবুও তার ভালোবাসায় কখনো কমতি থাকে না। নিজের স্বপ্ন ভেঙে সন্তানের স্বপ্ন গড়ে তোলেন একজন মা। বিশ্ব মা দিবস সে অদৃশ্য ত্যাগগুলোকে মনে করার একটি বিশেষ দিন। মায়ের “খেয়েছো?” এ ছোট শব্দের মাঝেই লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর যত্ন। আমরা বড় হয়ে যাই, কিন্তু মায়ের চোখে সবসময় ছোটই থেকে যাই। জীবনে অনেক মানুষ আসবে-যাবে, কিন্তু মায়ের মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর কেউ দিতে পারে না। তাই শুধু আজ নয়, প্রতিদিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান আর কৃতজ্ঞতার দিন। সবশেষে এইটুকুই বলতে চাই, মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত ক্যাম্পাসজীবনের ভিড়েও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের সবচেয়ে কোমল জায়গাজুড়ে রয়েছেন মা। দূরে থেকেও মায়ের স্নেহ, দোয়া আর ভালোবাসাই তাদের প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে, লড়তে ও স্বপ্ন দেখতে শেখায়।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































