ফাইল ছবি
বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণের শর্ত আরও শিথিল করে দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা এবং পুরনো জামানত পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ঋণসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক সভায় এমন পরামর্শ দেয় ব্যসায়ীক সংগঠনগুলো।
অর্থনীতি সচল করতে বন্ধ কারখানা চালাতে ষাট হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করেছিল প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন শুরু হলে ঋণ প্রবাহ বেড়ে যাবে।
গত মে মাসে এটি ঘোষণা করার তিন মাসেও সাড়া না পাওয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিও আশানূরুপ গতি পাচ্ছে না। সবশেষ গত অগাস্টেও এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা আগের মাস জুলাইয়ে ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
এমন সময়ে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আরও ছাড় ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের উন্নতি করতে অংশীজনদের সঙ্গে সভা শুরু করেছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। আগের দিন অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে সভা করেন তিনি।
মঙ্গলবার ব্যবসায়ীক সংগঠনগুলোর পরামর্শ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সভায় গভর্নর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সরকারি আরেক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলে যান তিনি। পরে ডেপুটি গভর্নর কারি আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভাটি করেন। বুধবার (০৭ অক্টোবর) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে সভা করার সূচি রয়েছে গভর্নরের।
ষাট হাজার কোটি টাকার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ঋণ বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার। সভার বিষয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন (বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যাংকগুলো তো মাসে একটি বোর্ড সভা করে। একটি প্রপোজাল গেলে তা এক মাস অপেক্ষা করতে হয়, কোনো কোয়ারি থাকলে বিষয়টি তো সিদ্ধান্ত হয় না। আবার এক মাস অপেক্ষা করতে হয় এভাবে তো সময় অনেক লাগে।
আমরা বলেছি, দ্রুত অনুমোদন দিতে প্রতি সপ্তাহে একটি বোর্ড মিটিং করার। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিলে তো তারা করতে পারে।
চলমান ও পূণঃতফসিল করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে জামানত হিসেবে রাখা সম্পত্তির দাম বেড়েছে। সেটি পূণর্মূল্যায়নের দাবি করেছেন তিনি। এটি করলে ঋণ সীমাও বাড়ানো যাবে।
আরও পড়ুন <<>> অক্টোবরের ৫ দিনে এলো ৫১৩ মিলিয়ন রেমিট্যান্স
সে যুক্তি দিয়ে মাহমুদ হাসান বলেন, ঋণগুলো তো ১০ বছর আগের। জামানত রাখা সে সম্পত্তির দাম তো বেড়েছে। এখন তো পূণমূল্যায়ন করতে পারে।
সভায় অংশ নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, প্রণোদনা ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কম। সভায় তাও বলেছেন করেছেন ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি ব্যাংকারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নর তুলবেন বলে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবার কথা বলবেন গভর্নর।
অন্যদিকে প্রণোদনা ঋণের শর্ত আরও শিথীল করার দাবি করেছেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ব্যাংকে তো টাকা আছে। এখন ঋণের যে নিয়ম আছে, তা মানতে পারলে তো ব্যবসায়ীরা টাকা নিতোই। সেটি তো হচ্ছে না। এখন যেহেতু প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যেহেতু এটা প্রণোদনা তাই নীতিমালায় আরো ছাড় দিতে হবে। তাহলে ব্যাংকাররা গ্রাহকদের দিতে পারবে।
সভায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক, ডিসিসিআই (ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি), বিকেএমইএ (বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, অর্থনীতিকে পূণরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভনর্রর বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মত বিনিময় করছেন। এখানে অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীক সংগঠন ও ব্যাংকারও রয়েছেন।
তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে আসা পরামর্শ পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে। সার্কুলারে তার প্রভাব থাকবে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা ছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৫ শতাংশের মতো হবে। কিন্তু ১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশীয় পয়েন্ট কম ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ছিল এ যাবতকালের সর্বনিম্ন।
২০২৩ সাল থেকে খরার মধ্য দিয়ে যাওয়া বেসরকারি ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি গত মে মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































