Apan Desh | আপন দেশ

নিত্যপণ্যের বাজারে সুখবর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৪:০৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিত্যপণ্যের বাজারে সুখবর নেই

ছবি: আপন দেশ

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ডিম, মাছ, মুরগি, চিনি, আটা ও ময়দা দাম ঊর্ধ্বমূখী। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সয়াবিন তেল। এতে সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় আরও চাপ তৈরি হয়েছে। গেল সপ্তাহে কিছু সবজির দাম কমলেও এ সপ্তাহে বাড়তি। কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আবার কিছু সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে স্বল্প আয়ের মানুষ এমনিতেই বেকায়দায় আছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার কারণ দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন– এমন অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। 

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র মিলেছে। 

দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামে ডিম ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়েছে। তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিন্তু বাজারে নতুন দরের তেল না এলেও পুরনো বোতল নতুন দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি এলাকাভেদে ১৯৫ থেকে২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা আগের সপ্তাহেও একই ছিল। সোনালি মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতোই ৩২০ টাকা থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে ডিম। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল। 

তবে গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত দুই কেজির আটা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও একই আটা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। খোলা আটার দামও বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

আরও পড়ুন<<>>বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল

চিনির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাস খানেক আগে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়।

বাজারে মাছের দামও বাড়তি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাইজ অনুযায়ী ১২০০ থেকে ২৪০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুণতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

সীমিত আয়ের মানুষের ভরসা ডিম ও সবজি। এ দু’টি পণ্যের দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন এসব ক্রেতারা। এদিন বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে। 

এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে কেজি ৪০ টাকা। নতুন করে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। গত সপ্তাহের ১২০ টাকার কাচামরিচ এদিন ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিচ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে বিভিন্ন ধরনের শাকের দামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাল শাক ১০ টাকা প্রতি আঁটি। কলমি শাক ১০ টাকা প্রতি আঁটি। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা প্রতি আঁটি। পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা প্রতি আঁটি। লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি আঁটি। কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়